ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হরমুজে শক্তি বাড়িয়ে ইরানের পাঁচ শর্ত

হরমুজে শক্তি বাড়িয়ে ইরানের পাঁচ শর্ত

চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচটি শর্ত মানতে হবে। আস্থা-সৃষ্টিকারী এই পাঁচটি শর্ত যতক্ষণ না পূরণ করা হবে ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসবে না ইরান। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে গত মঙ্গলবার এ সংবাদ প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। সূত্রটি জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা শুরু করার জন্য এসব শর্তকে ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ১) সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা (বিশেষ করে লেবাননে) ২) ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; ৩) জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা ৪) যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও ৫) হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া।

সূত্রটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তেহরানের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এমন বার্তা পাঠিয়েছে ইরান। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আলোচনায় ফেরার জন্য ন্যূনতম আস্থা তৈরির কাঠামোর মধ্যেই এই শর্তগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়া নতুন আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয় বলে মনে করে তেহরান।

ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই ইরান এই পাঁচ শর্ত উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি ছিল ‘সম্পূর্ণ একতরফা’ এবং যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জনে ব্যর্থ হওয়া লক্ষ্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টার উদ্দেশ্য নিয়ে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গত রোববার যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে পাকিস্তানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে ট্রাম্প সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরিচিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হয়।

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন সেøজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের : ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সেøজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী প্রচারাভিযানের শিরোনাম, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে অপারেশন স্লেজহ্যামার নিয়ে আলোচনা করছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় আকারের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি শুরু হওয়ার কথা। এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন নতুন অভিযানের নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউস দাবি করতে পারবে যে এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় আলাদা সামরিক অভিযান। ওই আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরান গত মাসে শত্রুতা বন্ধ করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনও চলছে কারণ, তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না করা পর্যন্ত নতুন আলোচনায় জড়িত হতে অস্বীকার করেছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধের সমাপ্তি- বিশেষ করে লেবাননে- নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পরে এটি সামনে এলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেয়, যাকে তেহরান একতরফা বলে সমালোচনা করেছিল। তারপর ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

হামলা সামলে নিয়ে সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান, সচল ৯০% ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি : যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রুজাহাজগুলোর দিকে তাক করা রয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই বাহিনীগুলো আঘাত হানতে প্রস্তুত। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, চলতি মে মাসের শুরুতে তৈরি করা ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

গোপন প্রতিবেদনের তথ্য জানেন এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগের তুলনায় বর্তমানে (সামগ্রিকভাবে) ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র (মোবাইল লঞ্চার) অক্ষত রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়, ইরানজুড়ে মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশই এখন ‘আংশিক বা পুরোপুরি সচল’। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস ইরানের সামরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়েলস বলেন, ইরান ভালো করেই বোঝে যে তাদের ‘বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়’।

অলিভিয়া ওয়েলস আরও মন্তব্য করেন, যারা ভাবছেন, ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তারা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, না হয় ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের হয়ে কথা বলছেন।

হামলা চলাকালে ট্রাম্প একের পর এক দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ব্যাপকতা অনেক বড় এবং তা ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যুদ্ধকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কমপক্ষে ১০০টি ধাপে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

হামলা চলাকালে ট্রাম্প একের পর এক দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ব্যাপকতা অনেক বড় এবং তা ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যুদ্ধকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কমপক্ষে ১০০টি ধাপে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বারবার বিজয় দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলেও তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ যন্ত্রের সংখ্যা যুদ্ধের আগের চেয়েও বাড়িয়ে নিয়েছে। গত শনিবার মুসাভি বলেন, ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রুজাহাজগুলোর দিকে তাক করা রয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই বাহিনীগুলো আঘাত হানতে প্রস্তুত।

ইরান যুদ্ধে চীনের সাহায্যের দরকার নেই যুক্তরাষ্ট্রের - ট্রাম্প : ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী সংকটের মধ্যেই চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে চীনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তবে একই সঙ্গে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে তার। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে চীনের কোনও সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বেইজিং যাত্রার আগে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না, ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনও সাহায্য দরকার’। তিনি আরও দাবি করেন, ‘একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে।’

ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির কারণে তার জনপ্রিয়তা চাপে রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো। এতে তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়েছে।

চীন সফরের আগে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প কিছুটা পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হবে। সত্যি বলতে, শি জিনপিং এ বিষয়ে তুলনামূলক ভালো ছিলেন’। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে কথা হবে। সত্যি বলতে, ইরান তার মধ্যে বড় বিষয় নয়, কারণ ইরানকে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’

ট্রাম্প গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছাবেন। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর তিনি হোটেলে যাবেন। এরপর আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং পরদিন শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন তিনি। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের নেতাদের মধ্যে এটি হবে সরাসরি প্রথম বৈঠক। এছাড়া ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার দ্বিতীয় চীন সফর।

চলতি বছরের শেষ দিকে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরেরও কথা রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন, চীনের সঙ্গে এমন কিছু চুক্তি করতে যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি খাদ্যপণ্য ও উড়োজাহাজ কেনে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আলোচনা হবে বাণিজ্য নিয়েই।’ এই সফরে তার সঙ্গে যাচ্ছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন ব্যবসায়ী নেতা। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক মতপার্থক্য কমাতে কাজ করবে। এর আগে গত বছর ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর পর যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, চীন পাল্টা বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তা আরও তীব্র হয়। পরে গত অক্টোবরে এক বছরের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ। এদিকে চীনের দাবি করা স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির মার্কিন পরিকল্পনাও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বেইজিং এ পরিকল্পনায় অসন্তুষ্ট। গত সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ নিয়েও তিনি শির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা হওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে তাইওয়ানের গুরুত্ব বেড়েছে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে তাইওয়ান থেকে বেশি পণ্য আমদানি করেছে। চীন সফরে রওনা হওয়ার আগেই ট্রাম্প এটিকে সফল সফর হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক বহু দশক ধরে দারুণ থাকবে। আপনারা জানেন, বছরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট শি এখানে আসবেন। সেটা হবে দারুণ বিষয়। শুধু আফসোস, হোয়াইট হাউসের বলরুম তখনও তৈরি হবে না।’

ট্রাম্পের চীন সফরের কয়েক দিন আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিং সফর করেন। যদিও ট্রাম্প বলছেন, চীনের সহায়তা প্রয়োজন নেই, তবু মার্কিন কর্মকর্তারা চীনকে তেহরানের ওপর প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। চীন এখনও ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা এবং যুদ্ধ চলাকালেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রকাশ্যে চীনকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ভূমিকা রাখে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানান, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে, কোনও দেশ যেন ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলের জন্য টোল আদায় করতে না পারে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের অভিযোগে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিং এসব নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের কোম্পানিগুলোকে তা উপেক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর সামরিক সীমানা বাড়াল ইরান : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের সামরিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইরান। কৌশলগতভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র ভৌগোলিক সীমানা পরিবর্তন এনে একে কয়েকশ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি বিশাল ‘অপারেশনাল জোন’ বা সামরিক সক্রিয়তা অঞ্চলে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর উপ-পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকবরজাদে জানিয়েছেন, ইরান এখন আর হরমুজ প্রণালীকে আগের মতো সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমায় সীমাবদ্ধ রাখছে না। অতীতে হরমুজ এবং হেঙ্গাম দ্বীপের আশপাশের সীমিত এলাকাকে প্রণালীর অংশ মনে করা হলেও এখন এর সংজ্ঞা আমূল বদলে ফেলা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগে হরমুজ প্রণালীর অপারেশনাল এলাকা ২০ থেকে ৩০ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ২০০ থেকে ৩০০ মাইল বা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকা জাস্ক এবং সিরিক থেকে শুরু করে কেশম ও গ্রেটার তুনব দ্বীপের সীমানা ছাড়িয়ে এই নতুন কৌশলগত জোন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেনারেল আকবরজাদে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান তাদের সামরিক নীতিতে এই পরিবর্তন এনেছে। ইরান এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক গতিবিধি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের জলসীমায় কোনো ধরনের আগ্রাসন সহ্য করবে না।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। ইরান এই এলাকা বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘আগ্রাসন’ বা ‘সম্প্রসারণবাদ’ হিসেবে দেখতে নিষেধ করেছে। তাদের দাবি, এই নতুন নীতি সত্ত্বেও তারা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এ ছাড়াও ইসরায়েল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে পুনরায় হামলার শিকার হলে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে চরম মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি আবারও আক্রান্ত হয়, তবে অন্যতম বিকল্প হিসেবে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী মাত্রা অর্থাৎ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে।

শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পাঠানো শর্তাবলিকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ বা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এই অচলাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নিজ দেশে জনঅসন্তোষ বাড়ায় ট্রাম্প এখন বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এদিকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ চীন যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে ইরান যুদ্ধ। এ যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে শুরু করেছে চীন। পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে চীন একটি পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এপ্রিলের শুরুতে চালানো এই হামলায় শোধনাগারটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং এর কার্যক্রম দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। মূলত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবেই ইউএই এই পাল্টা পদদেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী খুলতে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতার আহ্বান চীনের : হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে চীন। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

চীনা বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে ওয়াং ই এই আহ্বান জানান। ফোনালাপে ইসহাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো সম্পর্কে বেইজিংকে অবহিত করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই উদ্যোগে চীনের অব্যাহত সমর্থনের জন্য বেইজিংকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ইসলামাবাদের এই প্রচেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বেইজিং জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে নীতিগত সমর্থন দিয়ে যাবে এবং এই আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে চীন নিজেও নিজস্ব কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করবে।

হরমুজে নিয়ন্ত্রিত চলাচলের মধ্যে ইরানের সঙ্গে জ্বালানিচুক্তি করল ইরাক ও পাকিস্তান : উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইরাক ও পাকিস্তান-দুই দেশই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র রয়টার্সকে এমন তথ্য দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ চলার মধ্যে এমন চুক্তির খবর পাওয়া গেছে।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ার বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে এমন একটি অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে, যেখান থেকে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত