
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকা সেনাসদস্যদের ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, “আমরা দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনো ডেপ্লয়েড আছি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি। এখনো আছি; এখনো ১৬-১৭ হাজার সেনা বাংলাদেশের ৬২টা জেলায় আছে। “আমরা অনেক সৈনিক উইথড্র করেছি, বাট এখনো সম্পূর্ণ উইথড্র হয়নি। ইনশাল্লাহ আমরা আশা করছি যে, কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সবাই ব্যারাকে ফেরত আসতে পারব।” গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ব্যারাকে ফিরলেও দেশের প্রয়োজনে সেনাসদস্যদের কিছু কাজ চালিয়ে যেতেই হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যেমন এখন ফুয়েল ডিপোগুলোতে আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট আছে। এরকম টাইম টু টাইম বিভিন্ন কাজে আমাদের হয়তো সরকারকে সহায়তা করতে হবে।” বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। ওই পরিস্থিতিতে ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী নামানো হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ওই বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সে সময় থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা হয়, পুলিশ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মাঠেই রেখে দেয়। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাও দেয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এ মাসের শুরুতে সেই কমিটির সভায় সেনা প্রত্যাহার শুরুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। মাঠে থাকা সেনাসদস্যরা ব্যারাকে ফিরে নিজেদের কাজে মনোনিবেশ করবে বলে জানান বাহিনীপ্রধান। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “মোটাদাগে আমাদের যে প্রধান কাজক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে প্রশিক্ষণ, ফায়ারিং করা, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিআমাদের নিজস্ব যেই পদ্ধতি আছে, নিজস্ব ওয়ে আছে; সেগুলোতে আস্তে আস্তে আমাদের শুরু করতে হবে। এজন্য ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।“ ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমরা এতদিন ফায়ারিং সেভাবে করতে পারিনি, এখন ফায়ারিং কম্পিটিশন হলো। “আমি যে রেজাল্ট দেখলাম, ফায়ারারদের যে দক্ষতা দেখলাম, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে- এতদিন ফিল্ডে থাকার পরেও আমাদের ফায়ারিং সক্ষমতা কমেনি। এটা একটা ভালো লক্ষণ।” ১৬ মে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। এতে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানার-আপ হয়। সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বাহিনী প্রধান বলেন, “আমাদের আস্তে আস্তে এরকম আরও ট্রেনিং ইভেন্টগুলো শুরু করতে হবে এবং আমাদের যেই কাজ প্রশিক্ষণ, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি, সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা, ট্রুপসের মোরাল ঠিক রাখা, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ঠিক রাখা— সেই কাজগুলো আমরা শুরু করছি ইনশাল্লাহ।