ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যানজট, ভোগান্তির ঈদযাত্রা

* জলাবদ্ধতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট * ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে তীব্র যানজট : ভোগান্তি * ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে পর পর দুই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল
যানজট, ভোগান্তির ঈদযাত্রা

ঈদুল আজহা উদযাপনে ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হয়েছে আগেই। গরুর হাট, খানাখন্দ আর বিভিন্ন সড়কে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় এবারের ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার ভোররাত প্রায় চারটা থেকে শুরু হওয়া এ যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। জানা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়া অংশজুড়ে এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

যানজটে আটকে পড়া ট্রাকচালক শামীম মিয়া বলেন, তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন। চোখে ঘুম, কী করব বুঝতে পারছি না। শুনেছি দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনার কারণেই এই যানজট। একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে বাসচালক শহিদ বলেন, বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে তিনি যানজটে পড়েছেন। কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব, তা বলতে পারছি না। এক বাসযাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, এ মহাসড়কে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট : ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। পৌনে দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি গড়িয়ে মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস, কুনিয়া, বড়বাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়ে যানজট শুরু হয়। অনেক যানবাহনকে দেড়-দুই ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দীর্ঘসময় আটকা থেকে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হালুয়াঘাটগামী আলম এশিয়া পরিবহনের যাত্রী কবির হোসেন বলেন, টঙ্গীর গাজীপুরা থেকে কুনিয়া এবং বোর্ডবাজার থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তায় দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। গাজীপুরা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার যেতে ২ ঘণ্টা লেগেছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানান, বৃষ্টিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়াসহ অনেক স্থানে হাঁটুপানি জমে গেছে। এ কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। তবে যানজট নেই।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে তীব্র যানজট-ভোগান্তি : ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার জেরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটি শেষে প্রথম দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষ কয়েক ঘণ্টা চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন। গত রোববার দিবাগত রাত থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের দুটি পৃথক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটলে এই যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্রীনগরের দোগাছি এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এক ট্রাকচালক নিহত হন। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি সরানোর কাজ চলাকালীন সোমবার ভোরে এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর এলাকায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষ ঘটে। দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। পরপর দুটি দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা ছাড়িয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘরমুখো যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।

মাওয়া হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল হায়দার জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ঈদযাত্রার চাপ সামলাতে হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। পদ্মা সেতুতে যান চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে মাওয়া প্রান্তে আটটি বুথে নিরবচ্ছিন্নভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের বাড়তি চাপ সামলাতে আলাদা দুটি বিশেষ লেন চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহন ও দুর্ঘটনা মিলিয়ে এ ধরনের যানজটের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আরও সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে পর পর দুই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল : ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে পর পর দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে। এতে রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এর আগের দিনও একই রুটে একটি ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। রেলওয়ে সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘জামালপুর কমিউটার’ ট্রেনটি গফরগাঁও উপজেলার হাতীখলা এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে ট্রেনটি মাঝপথে আটকে যায়। পরে চালক ও রেলওয়ের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে ইঞ্জিনটি সচল করেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়। ত্রিশালের ফাতেমানগর স্টেশন এলাকায় ট্রেনটি আটকে গেলে আবারও রেলপথটিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত রোববার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন এলাকায় আগুন লাগে। পরে মেরামতের পর প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, সকাল থেকে ঢাকা ও জামালপুরগামী দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। গত রোববার একটি ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর বেশির ভাগ ইঞ্জিন পুরোনো জানিয়ে আকতার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত চলাচলের কারণে ইঞ্জিন গরম হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নতুন ইঞ্জিন ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ফাতেমানগর স্টেশনে আটকে পড়া ট্রেনটি উদ্ধারে রিলিফ ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। ময়মনসিংহ জংশন ও আউলিয়ানগর স্টেশনে দুটি ট্রেন আটকা পড়ে আছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত