ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারল্য সংকট মেটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গতকাল রোববার এ তথ্য জানান। এর আগে গত শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কিছু নিয়মণ্ডকানুন আছে, কিছু টুলস আছে, সেই টুলসগুলো আমরা প্রয়োগ করব। লিকুইডিটি সাপোর্ট দেব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না। তারা তাদের আমানত যে কোনো সময় ফ্রিলি তুলতে পারবেন। এটাতে কোনো সমস্যা নাই।’

ইসলামী ব্যাংকে কোনো সমস্যা হবে না মন্তব্য করে গভর্নর সেদিন বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো সমস্যা হবে। কারণ এজ পার রুলস (নিয়ম মোতাবেক) ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট সেই কাজগুলো করছেন এবং করবেন।’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত ছিল (এডি রেশিও) ৯৩ শতাংশ। গত মার্চে তা ৯৭ এর উপরে চলে যায়। সেই তথ্য তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ‘আমরা উনাদেরকে কমাতে বলি। ইসলামী ব্যাংকে সর্বোচ্চ এডি রেশিও হচ্ছে ৯২।’

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯২ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। অবশিষ্ট ৮ টাকা রাখতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসএলআর ও সিআরআর হিসেবে। প্রচলিত ব্যাংকের বেলায় এডি রেশিও ৮৭ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘স্যোশাল মিডিয়া গরম যে, (ইসলামী ব্যাংকে) অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে সরকার। আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা কোনো লোনের জন্য, কাউকে বদলির জন্য বলি না। কারো প্রমোশনের জন্য বলিনি।’ ‘ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় একটা অভিযোগ তোলা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এক কথা বারবার বললেও সত্য ধরে নেয় অনেকে।’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে একটি পর্ষদ গঠন করা হয়। এর মধ্যে একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাকে বদলানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান গভর্নর।

কোরবানির ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সেদিন বিকেলে চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এসব ঘটনাপ্রবাহ তুলে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘এখন যেটা হয়েছে যে, ঈদের আগের দিন সকাল থেকে একটা স্লোগান উঠেছে, তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাচ্ছে।’ ‘তৎকালীন যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, উনি বিকালে (২৪ মে) পদত্যাগ করেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে এখানে যেহেতু ৫ জনের বোর্ড, আর একটা সিস্টেমিক ব্যাংকে আসলে বোর্ড এই মিনিমাম ৫ জন ছাড়া চলবে না। তো আমাদের তাৎক্ষণিক একটা নিয়োগ দিতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ে আমরা নিয়োগ দিই। এরপর থেকে দেখলাম যে, ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার একটা প্রচেষ্টা আছে।’

ঈদের ছুটির পর থেকে নতুন চেয়ারম্যানের বিরোধিতা করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে নামেন একদল লোক, যাদের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধন রয়েছে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অভিযোগ। সেই আন্দোলনের জেরে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে সংসদেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে সরকারি ও বিরোধী দল। এদিকে নগদ টাকার সংকটে ইসলামী ব্যাংক গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চায়। এমন প্রেক্ষাপটে সেদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে বসান গভর্নর।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত