
বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আর মাত্র এক দিন বাকি। অথচ এখনও আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। অনুশীলনে একাধিক ফর্মেশন পরীক্ষা করেছেন তিনি। মাঝমাঠ ও আক্রমণ ভাগ মোটামুটি নিশ্চিত হলেও রক্ষণভাগ নিয়ে এখনও রয়েছে বেশ কিছু প্রশ্ন। শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে তিনি দুটি ভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করে প্রতিপক্ষের জন্য নিজের পরিকল্পনা আড়াল করে রেখেছেন। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে শেষ দিকের অনুশীলনগুলোতে রক্ষণভাগে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন স্ক্যালোনি। অনুশীলনে প্রথমে ৪-৪-২ ফর্মেশন নিয়ে কাজ করেন তিনি। সে সময় রক্ষণভাগে ছিলেন গনঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পরে রোমেরোর জায়গায় বাঁ দিকের ডিফেন্ডার হিসেবে ফাকুন্দো মেদিনাকে দেখা যায়। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার খেলার ধরন বিবেচনায় এই ৪-৪-২ ফর্মেশন দিয়েই আর্জেন্টিনা ম্যাচ শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোন কোন খেলোয়াড় শুরু থেকেই মাঠে নামবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ডান প্রান্তে নাহুয়েল মোলিনার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেন্ট্রাল ডিফেন্সের জুটি নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। দুই জায়গার জন্য অন্তত তিনজন খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। আবার এমনও হতে পারে, তিনজনই খেলবেন এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা অতীতেও কয়েকবার করেছে আর্জেন্টিনা।
এরই মধ্যে দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চোট। বাঁ পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে অন্তত আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। অনুশীলনে ৩-৫-২ ফর্মেশনও পরীক্ষা করেন স্ক্যালোনি। এ ব্যবস্থায় আক্রমণাত্মক দুই উইং-ব্যাক হিসেবে খেলেন জুলিয়ানো সিমেওনে ও নিকোলাস গনঞ্জালেস। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ছিলেন ডান স্টপার, ওতামেন্দি সুইপার এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বাম স্টপারের ভূমিকায়। স্ক্যালোনি যদিও সাধারণত ম্যাচের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ফর্মেশন ব্যবহার করেন। শুরু থেকেই এমন কৌশলে মাঠে নামার সম্ভাবনা কম, বিশেষ করে দুই পাশে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের উইং-ব্যাক হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা আরও কম।
তবে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের চিত্র তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো দে পলকে নিয়ে মাঝমাঠ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর আক্রমণে দেখা যেতে পারে লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেজকে। বাঁম গোড়ালির লিগামেন্ট চোটের কারণে আগের দুটি প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি হুলিয়ান আলভারেজ। ফলে তার পরিবর্তে লাউতারোরই শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেশি। এদিকে আক্রমণভাগের আরেকটি জায়গার জন্য জুলিয়ানো সিমেওনের চেয়ে এগিয়ে আছেন থিয়াগো আলমাদা। ক্লাব পর্যায়ে মৌসুমটা খুব একটা ভালো না গেলেও গত এক বছরে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও গুরুত্বপূর্ণ গোল করে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়েছেন এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে স্ক্যালোনির হাতে এখনও একাধিক বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে রক্ষণভাগের ধাঁধার সমাধান কীভাবে করেন, সেটিই এখন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, ‘আমার কাছে বিশ্বকাপ মানেই আবেগ। এই টুর্নামেন্ট শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, এটি চরিত্র, মানসিক শক্তি এবং নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করার মঞ্চ। বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা শুধু প্রতিভার ওপর নির্ভর করে না, মানসিক দৃঢ়তা এবং দলগত সংহতির কারণেও তারা অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে। তিনি বলেন, লিওনেল স্কালোনির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো তিনি আর্জেন্টিনাকে একজন তারকার দল থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ দলে রূপান্তরিত করেছেন। গোলবারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এখন বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলকিপার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার সেভ পুরো দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে আমি আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা বলব। তারা শুধু বলের নিয়ন্ত্রণই রাখে না, আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যেও দারুণ ভারসাম্য তৈরি করে। আর সামনে আছে লিওনেল মেসি। তার অভিজ্ঞতা, খেলার দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও অতুলনীয়। বাবলু বলেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা জানে কীভাবে বড় ম্যাচ খেলতে হয়। চাপের মুহূর্তে তারা ভেঙে পড়ে না, বরং আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। এ কারণেই আমি তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ : গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি/লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা/লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস মাক আলিস্টার, থিয়াগো আলমাদা। ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ/লাউতারো মার্তিনেজ।