ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফের সংকটে মধ্যপ্রাচ্য বাড়ছে উদ্বেগ

ফের সংকটে মধ্যপ্রাচ্য বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা দুটি ‘আপত্তিকর তেলবাহী জাহাজকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ দাবি করেছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চাপের মধ্যে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের ‘অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে’ প্রবেশ ও বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি আমাদের ভূখণ্ড। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আমেরিকান বাহিনীর হস্তক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এর জবাব দেওয়া হবে।’

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘যতদিন এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে, ততদিন এই নৌপথ রাসায়নিক সার কিংবা এক ফোঁটা তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্যও নিরাপদ থাকবে না।’ তবে আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত ১০টা (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) এসব অভিযান শেষ হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সম্ভাব্য হামলার সক্ষমতা কমাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

নবম দিনে গড়াল মার্কিন হামলা, বিস্ফোরণে কাঁপছে ইরান : হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার জেরে ইরানে নবম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাতভর এ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব শহরে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সিরিক, জাস্ক, তাবরিজ ও চাবাহারসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর গত দুই দিনে তিন সেনা নিহত হয়েছেন। এরপর সোমবার হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘাতের জেরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক মাস আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে গেছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, সর্বশেষ এ হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা চালাতে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করা।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বন্দরনগরী মাহশাহর ও ইমাম খোমেনিতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে আরও জানানো হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলবর্তী হরমোজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক শহরের কাছে এবং বুশেহর প্রদেশের খভোরমুজ শহরের কাছেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। আইআরআইবি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজ শহরের কাছে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে, আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কোনারাক ও চাবাহারে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় আবারও ইরানের দক্ষিণ উপকূলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাবরিজে বিস্ফোরণের ঘটনাটি নিশ্চিত হলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এই প্রথম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহরটি হামলার শিকার হবে। তিনি আরও বলেন, জবাবে ইরানি পক্ষও প্রতিশোধমূলক হামলার কথা বলছে। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোরেস্তান প্রদেশ থেকে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর আগে কুয়েত ‘শত্রু ড্রোন হামলার’ মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, রোববার বাহরাইনে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে। জর্ডানেও সাইরেন বেজেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লেগেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই নৌ-চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করছে। অন্যদিকে, তেহরান বলছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে চলাচলসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা ইরানের : ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোনে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং এবং একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রোববার ইরানি ড্রোনের আঘাতে এ দু’ই কেন্দ্রে আগুন ধরে গিয়েছিল।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, কুয়েতের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই নিয়ে টানা তৃতীয় রাত হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগে শনিবার দেশটির একটি তেল ডিপোতে ড্রোন হামলা করেছিল ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তার আগের দিন শুক্রবারও কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলা হয়েছিল। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইরানের আগ্রাসী ড্রোন হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আষে। আগুনে বিদুৎ কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি জেনারেটর ইউনিট পুড়ে গেছে। গত ৩ দিনের মধ্যে এই নিয়ে মোট দু’বার কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা করল ইরান।’ এদিকে একই দিন বাহরাইনের রাজধানী মানামার আশপাশের এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইরান নিক্ষেপ করেছে বলেও জানা গেছে। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম ঘাঁটির সদরদপ্তর অবস্থিত। দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটির বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করেছে ইরান। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আজ সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলার জবাব দিতে রোববার কুয়েত এবং বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটির একাধিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা, আরও এক মার্কিন সেনা নিহত : মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ছোড়া একটি অবিস্ফোরিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও এক সেনা আহত হয়েছেন। গত রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় এক সেনা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৮ জুলাই ওই সেনা নিহত হন। এ সময় ড্রোনটি বিস্ফোরিত হলে আরও এক সেনা আহত হন। তবে নিহত সেনার নামণ্ডপরিচয় জানানো হয়নি। সবশেষ এ সেনার মৃত্যুর ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম রোববার জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এটি শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের হামলা তীব্রতর হয়েছে। দুই পক্ষের এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত স্বল্পমূল্যে উৎপাদিত এবং অত্যন্ত বিস্ফোরক একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এ ধরনের ড্রোনকে শাহেদ ড্রোন বলা হয়।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিটি শাহেদ ড্রোন প্রায় ৩০ হাজার ডলার ব্যয়ে উৎপাদন করা যায়। ফলে হামলায় এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, এগুলো ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে। অনেক সময় এসব ইন্টারসেপ্টর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতেও ব্যর্থ হয়। গত রোববার ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগানের কাছে হামলা চালিয়েছে। পরে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদানে একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থাও দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, তারা রাতভর হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে। কেন্দ্রটি নির্মাণের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার জবাবে ইরান কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লেগেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রোববার দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। এদিকে জর্ডানে সাইরেন বেজে উঠেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জর্ডান ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে।

মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছে ইরান, স্বাগত জানাতে প্রস্তুত : যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালালে তা মোকাবিলায় ইরানের নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এমন লোক রয়েছেন, যারা সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য মিনিট গুনছেন এবং মার্কিন সেনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’ আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঘায়ি আরও বলেন, ‘খার্গ দ্বীপ দখলের মতো যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানি মুখপাত্র বলেন, তেহরান যুদ্ধ ও কূটনীতি- উভয়কেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচনা করে। তার ভাষায়, ‘আমি যুদ্ধ অথবা কূটনীতির এই দ্বৈত ধারণা প্রত্যাখ্যান করছি। কূটনীতি আমাদের জাতীয় স্বার্থ অর্জনের একটি মাধ্যম, যেমন যুদ্ধও একটি মাধ্যম।’

বাঘায়ি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের পাঠ্য নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে ১৪টি ধারা রয়েছে। শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের। এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে পরামর্শ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির ভাষা পুরোপুরি স্পষ্ট। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এ চুক্তি ভঙ্গ করার কোনো অজুহাত নেই।’ ইরানি মুখপাত্র জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছি। বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী আমাদের কাছে কিছু প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন।’ সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন বাঘায়ি। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তেহরানের কোনো বৈরিতা নেই। তবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বাঘায়ি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তবে আমরা আশা করি, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবে না। যতদিন এ ধরনের হামলা চলবে, ততদিন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও জবাব দিতে থাকবে।’

ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে, মার্কিন হামলা সামলে পাল্টা প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে তারা : ইরানে আমেরিকা টানা নবম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আজ সোমবার ভোররাতে তারা নবম রাতের হামলা শেষ করেছে বলে জানিয়েছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তেহরান প্রমাণ করছে, ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি তারা সহ্য করতে সক্ষম। তারা এমন প্রাণঘাতী জবাব দিতে পারে, যা যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোর পর মার্কিন সামরিক বাহিনী আর দেখেনি। জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একজন নিখোঁজ এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পেন্টাগন তাদের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির কথা প্রকাশ করছে না। তবে তেহরানের দাবি, তাদের একাধিক দিনের হামলায় প্রচুর সংখ্যায় মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারের মতো ঘাঁটির মূল অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত