ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন কি না তাকেই জিজ্ঞেস করুন

বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন কি না তাকেই জিজ্ঞেস করুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছে, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সে সুযোগ তার আছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ‘পদক্ষেপ নেই’। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন-এমন গুঞ্জনের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এক বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে স্বাস্থ্যগত কারণে বা যে কোনো কারণে, তার সে অপশন আছে। আমরা তো জানি না।’

এ ব্যাপারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন। আর এটা যদি ঘটনা হয় তো আমরাও দেখব।’

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে যেসব গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সে বিষয়ে আরেক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে, ‘আপনি তো নিজেই বললেন এটি একটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’

স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেটা উনাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে।’

প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে গত বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়।

সায়ের ফেইসবুকে লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’ এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনও আসেনি। তবে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকারকে শিগগির চিঠি লিখবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে ‘পদত্যাগের বিষয়টি’ তিনি তুলে ধরতে পারেন। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।

অবশ্য রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

সেদিন সরাসরি যোগাযোগ করে কখন পদত্যাগ করতে চান জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ‘নতুন সরকার আসলে, নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।’

কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, ‘আমার ভালো লাগে না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।’

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও দাবি করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত