ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শাপলা চত্বর মামলা

৩০ আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

৩০ আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

তের বছর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে 'হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের' অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে জহিরুল আমিন বলেন, এ মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাদের হদিশ পাননি। এ কারণে পলাতকদের হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।

শুনানি শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে কৌঁসুলি গাজী তামীম বলেন, পরবর্তী ধাপ হিসেবে দুটি জাতীয় পত্রিকায় (একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি) পলাতক আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান রয়েছে। এ বিজ্ঞপ্তি সংবলিত পত্রিকা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য হয়েছে।

কারাগার থেকে হাজির ১০ জন : এ মামলায় গ্রেপ্তার ১০ জনকে এদিন সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু। তবে অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রূপাকে হাজির করা হয়নি।

এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও যারা পলাতক রয়েছেন, তারা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন এডিসি মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বি এম ফরমান আলী।

বিচার প্রক্রিয়া, আসামিপক্ষের অভিযোগ : প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে।

আসামীপক্ষের আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফরমাল চার্জের সঙ্গে সাক্ষীর জবানবন্দি, জব্দ তালিকা, তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিয়েই প্রসিকিউশন মামলা আমলে নেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। শুধুমাত্র ফরমাল চার্জের ভিত্তিতে আদালত মামলা আমলে নেন।

'এখানে একটা আইনি বাধ্যবাধকতার ব্যাপার আছে। আদালতে উল্লিখিত কাগজপত্র দাখিলপূর্বক শুনানি সাপেক্ষে আদেশদানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ মামলায় সেটা অনুসরণ করা হয়নি।' তিনি বলেন, 'আমরা তো নথিপত্র পাইনি; প্রসিকিউশন আদালতকেও যথাযথভাবে সেগুলো জমা প্রদানপূর্বক শুনানি করেননি। সুতরাং এখানে মামলাটি আমলে নেয়াটা আইনসিদ্ধ হয়নি।'

এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বর্ণনা করে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ তো ভিত্তিহীন। শুধুমাত্র আসামি পক্ষ মামলা বিচারের প্রস্তুত হওয়ার পরে আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাগজপত্র তারা প্রাধিকারভাবে পায়।'

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, 'যেমনভাবে মানুষ সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার চায়, একইভাবে শাপলা চত্বর হত্যা মামলারও কিন্তু মানুষের একটা গণদাবি আছে।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত