
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে 'অপারেশন ক্লিন হার্ট' করার মতো কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করে তিনি কথা এ বলেন। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রুখতে সরকার ২০০২ সালের 'অপারেশন ক্লিন হার্ট'-এর আদলে বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ওই অভিযান চালানো হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। তবে সে খবর উড়িয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ধরনের কোনো অভিযানের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমাদের অপারেশন ক্লিন হার্টের মত কোনো পরিকল্পনা নাই।' আরেক সাংবাদিক এ সময় বলেন, খুলনায় পুলিশ যেখানে নিজেই রাতে চলাচলে ভয় পাচ্ছে তাহলে তারা কীভাবে মানুষের নিরাপত্তা দেবে? জবাবে স্বারষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "পুলিশ অপরাধ দমন করতে গেলে, মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটা নতুন কোন বিষয় নয়। আমরা অপরাধীদের দমন করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেব।"
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে কেউ যদি সহায়তা দিয়ে থাকে আসামিকে, সেক্ষেত্রেও আমরা যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেব। যদি আপনারা তথ্য দেন। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাব।"
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা, ডিসেম্বরকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা এবং বিরোধী দলের আন্দোলন সবমিলিয়ে কোন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সব বিষয়ে দায়িত্ব আছে, চ্যালেঞ্জ নাই।" চট্টগ্রাম সিআইডিনর সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আমরা প্রথম থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছিলাম। আমরা সেটা গঠন করেছি। যাত্রা শুরু হয়েছে, পুলিশ সাইবার ইউনিট নামে গত ১ অক্টোবর থেকে। "বাংলাদেশে ৮টি ডিভিশনার হেড কোয়ার্টারে আমরা খুব দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করব ইনশাল্লাহ। এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছি। কোরিয়ান সরকারের সহযোগিতাও আজকে আমরা চেয়েছি।" তিনি বলেন, "বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। স্ক্যাম হচ্ছে। এমনকি স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনও সাইবার স্পেসের মাধ্যমে হচ্ছে। এই সমস্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোন বিকল্প নাই। "আমরা সেজন্য আমাদের সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্র বিভাগ জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে এই ডিজিটাল অ্যানালাইসিস বৃদ্ধি করার জন্য উদ্যোগ নেব। তাছাড়া সিআইডি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ক্যামিকেল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে। যেটা আমরা ভিসেরা রিপোর্ট ইত্যাদি করে থাকি।" এর সম্প্রসারণও জরুরি হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "কারণ জাস্টিস সিস্টেমে যদি মানুষের বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে চাই তাহলে এ সমস্ত অ্যানালাইসিসের প্রয়োজন হয়। এগুলো সাক্ষ্য প্রমাণের এবং সেটার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। "সেহেতু আমরা যুগের প্রয়োজনে, সময়ের প্রয়োজনে যেহেতু অপরাধের ধরন পাল্টেছে এখন আমাদের প্রয়োজনও এ সমস্ত ক্ষেত্রে মিটাতে হবে। সেই প্রয়োজন মাথায় রেখেই আধুনিক ডিজিটাল জগতে সমস্ত ক্রাইম যেগুলো হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ ও প্রতিরোধ করার জন্য ওয়েল ইক্যুইপড আমরা হব।