
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে আয়োজিত ভোটের প্রথম দুই ধাপে বড় ও স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হয় সরকার সমর্থিত দল ইউএসডিপি। তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট শেষে নির্বাচনে জয়ের দাবি করেছে দলটি। বিশ্লেষকরা এমনটাই ধারণা করেছিলেন। গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইএসডিপি)-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়ী হয়েছি।’ গত রোববার তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট শেষে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এখন নতুন সরকার গঠনের মতো অবস্থায় আছি। যেহেতু আমরা নির্বাচনে জিতে গিয়েছি, আমরা এখন সামনের দিকে তাকাব।’ বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপি প্রকৃত অর্থে কোনো বেসামরিক রাজনৈতিক দল নয়। মূলত সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যদের নিয়েই দলটি গঠিত। বাকি যেসব নেতা আছেন, তারাও সেনাবাহিনীর প্রতি দায়বদ্ধ।
মিয়ানমারের বড় একটি অংশ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের অধীনে। সেসব অঞ্চলে ভোট হয়নি। যার ফলে, এই ভোটে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে, এমনটা বলা যায় না। পাশাপাশি, নিষিদ্ধ থাকায় এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি মিয়ানমারের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডিপি)।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বড় আকারে প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ তোলা হলেও এর স্বপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি জান্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক অভ্যুত্থানের ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন সামরিক শাসনকে বাইরের বিশ্বের চোখে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। গত রোববার মান্দালায় শহরের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান হ্লাইং। এসময় ‘প্রেসিডেন্ট হতে চান কী না’ এমন প্রশ্নের না বোধক জবাব দেননি তিনি।
উল্লেখ্য, পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্নকক্ষের সব আসনের ফল জনগণের ভোটে নির্ধারণ হলেও প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। মার্চে নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের নিয়ে পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর পর সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বেছে নেবেন। খুব সম্ভবত প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন মিন অং হ্লাইং।
এমনটাই আভাস মিলেছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুস বলেন, মিয়ানমারে নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার রেওয়াজ নেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনের ফল নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া। এই প্রহসন ও প্রতারণামূলক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেলে (মিয়ানমারে) চলমান সংকটের প্রকৃত সমাধান অনেক পিছিয়ে যাবে, যোগ করেন তিনি।
২০২০ সালের নির্বাচনে যে দলগুলো ৯০ শতাংশ আসন জিতেছিল, তারা কেউ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি জানিয়েছে, জান্তা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করা হয়েছে। বিক্ষোভ ও নির্বাচনের সমালোচনা ঠেকাতে নতুন, নিপীড়নমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়।