ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দীর্ঘ যুদ্ধ নয়, ইরানে দ্রুত সময়ের হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

দীর্ঘ যুদ্ধ নয়, ইরানে দ্রুত সময়ের হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘসময় যুদ্ধ করতে চান না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর বদলে দ্রুত সময়ের হামলার পরিকল্পনা করছেন তিনি। কীভাবে দ্রুত হামলা চালানো সে ব্যাপারে কাজ করতে নিজের দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বাহিনী জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধজাহাজ ও সেনারা এমন জায়গায় অবস্থান করছেন যেখান থেকে ইরানে হামলা চালানো যাবে। এখন ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে তাদের ব্যবহার করা হবে। তবে হামলা এমনভাবে হবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুদ্ধ করতে হবে না।

বর্তমানে ইরানে বিপুল বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যেটির প্রভাবে সরকারের পতন হয়ে যেতে পারে। আবার একই সময় সরকারি অবকাঠামোর ওপর প্রথমে প্রতীকী হামলা চালানো হতে পারে। এরপর ইরান যদি তাদের দেওয়া শর্তে রাজি না হয় তাহলে পরবর্তীতে হামলা তীব্র করার সুযোগ রাখা হবে।

এদিকে গত বুধবার ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকে তাদের যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর যাচ্ছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আলোচনায় ইরানকে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। নয়ত গতবারের চেয়ে আরও খারাপ হামলা চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চুক্তির জন্য কিছু শর্ত দিচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে- ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশের হাতে তুলে দিতে হবে। ব্যালিস্টিক মিসাইল কার্যক্রম কমিয়ে ফেলতে হবে। এমনকি মিসাইলের দূরত্বও কমানোর শর্ত দেওয়া হচ্ছে। যেন এগুলো ইসরায়েলে পৌঁছাতে না পারে। এছাড়া হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ করতে হবে।

তারা আরও বলছে, গত বছর হামলার আগে ইরানকে ট্রাম্প একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর ওই সময় পার হওয়ার পর হামলা চালান। এবারও ট্রাম্প ইরানকে এমন সময়সীমা দেবেন, যেটি ইরান রক্ষা করতে পারবে না। এরপর তিনি হামলার নির্দেশ দেবেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরমধ্যে ১৩ জুন আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে বসে দখলদার ইসরায়েল। এরপর এতে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইরানের চারটি পারমাণবিক অবকাঠামোতে বোমা ফেলে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলেছে, ‘ইরান নিয়ে কি অবস্থান নেবেন তা নিয়ে ট্রাম্প নিজে হয়ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। একই সময় তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও মিসর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত