ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের তহবিলে ঘাটতি

ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের তহবিলে ঘাটতি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের তহবিলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গত মঙ্গলবার দেশটির গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলুর।

গণমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পেন্টাগন একটি জরুরি তহবিল ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তহবিলগুলো ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটের এই চাপ ইতোমধ্যেই সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিয়ে আনতে বাধ্য করেছে। নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় খরচ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউস ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল চেয়েছে, কিন্তু কংগ্রেসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। হোয়াইট হাউস এক মাসের জন্য ছুটিতে যাওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সামরিক তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রত্যেকেরই এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং নিজেদের আত্মতুষ্টি দূর করা প্রয়োজন।

মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর, পেন্টাগনের প্রেস সচিব শন পার্নেল বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করবেন এবং প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়নকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন। হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সামনে প্রশাসনের অর্থায়নের অনুরোধ তুলে ধরবেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভাউট রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ব্রিফ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে বিমান হামলা শুরু করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। পরে তিনি বহুবার ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধ প্রায় শেষ বা জয় নিশ্চিত, কিন্তু এই সংঘাত কয়েক মাস ধরে চলছে। ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল ও সারের বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে, যা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়েছে।

ভাউট আইনপ্রণেতাদের জানান, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যদিও বিশ্লেষকদের মতে মোট খরচের পরিমাণ এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, কারণ এর মধ্যে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো পুনর্র্নিমাণের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং চলমান অভিযানগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ এই মাসের শেষ নাগাদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১ অক্টোবর নতুন অর্থবছর শুরু না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য পেন্টাগন প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অস্ত্র সংগ্রহ থেকে অর্থ সরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে বেশ কিছু মহড়া বাতিল হয়েছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র কর্মসূচি থেকে ৪৩০ কোটি ডলার অধিক অগ্রাধিকারের খাতে স্থানান্তরের অনুমোদন চেয়ে কংগ্রেসকে অনুরোধ করেছে, কিন্তু আইনপ্রণেতারা এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউস পেন্টাগনের কার্যক্রমে অতিরিক্ত তহবিল পুনঃনির্দেশ করার কথাও বিবেচনা করছে, যদিও এর ফলে অন্যান্য কর্মসূচির তহবিল কমে যাবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত