
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আট নৌসেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এনবিসি নিউজ গত রোববার এক প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে অবস্থানকালে ইরানি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আটজন মার্কিন মেরিন সেনা আহত হন। খবর আনাদোলুর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এবং মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতজনিত উপসর্গের কারণে তাদের সম্ভাব্য 'ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি' বা মস্তিষ্কে আঘাতের সমস্যা দেখা দেয়।
আহতদের মধ্যে সাতজন ছিলেন সাধারণ পদমর্যাদার মেরিন সেনা (এনলিস্টেড পার্সোনেল) এবং একজন ছিলেন কর্মকর্তা।
তারা জানান, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন জাহাজটিতে আঘাত হানে, তখন ওই মেরিন সেনারা একটি 'ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং টিম'-এর অংশ হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো যুদ্ধজাহাজ ছিল না, তবে তারা এর ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি এবং এটিকে কেবল একটি 'সামুদ্রিক জলযান' (মেরিটাইম ভেসেল) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হতাহতের সংখ্যার বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগন ক্রমবর্ধমান যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়েছে, কারণ প্রতিবেদন ও শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে আহত ও নিহত সেনাসংখ্যায় প্রায়ই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার পর্যন্ত পেন্টাগনের 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম'-এর তথ্যানুযায়ী, এই সংঘাতে ৮৬১ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রায় ১০ দিন পর ওই আট মেরিন সেনার নাম ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এমন কিছু উপসর্গ যা দেরিতে প্রকাশ পেতে পারে এবং সিস্টেমে তাৎক্ষণিক বা 'রিয়েল-টাইম' তথ্য হালনাগাদ করার সুযোগ না থাকার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে।