অনলাইন সংস্করণ
১৯:২৬, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যের অভাব নেই। তবে সঠিক তথ্যের পাশাপাশি অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে তথ্য কমিশনের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ; অপতথ্যরোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য জানার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সেই তথ্য হতে হবে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য। ভুল ও অসত্য তথ্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার, লাইক বা কমেন্ট করার আগে সেটির সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। অনেক সময় মানুষ নিজের অজান্তেই যাচাই না করে তথ্য প্রচার করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের দায়িত্ব তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য যাচাই করে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদেরও তথ্য ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, অপতথ্যের কারণে ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমপারসোনেশন, ভুয়া পরিচয় এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এখন থেকেই সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অপতথ্য, অসত্য তথ্য এবং এআইয়ের অপব্যবহার ভবিষ্যতে বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত হন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ তথ্য কমিশন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ, অপতথ্য প্রতিরোধ, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং এআইয়ের অপব্যবহার মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।