ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ-লুটপাট

গ্রেপ্তার ১২০০
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ-লুটপাট

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দূরবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারের এসব ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সহিংসতায় আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশ সদস্য।

ফরাসি সরকারের ভাষায়, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা আরও বেড়েছে। আয়োজকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। এদিন দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী প্যারিসে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। আগুনে অন্তত একটি রেস্তোরাঁ পুড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসে বিকেলের মূল মিছিলটি অনেকটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। একদল তরুণ বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চান, কিন্তু কিছুই এগোচ্ছে না। পরে কয়েকটি গোষ্ঠী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গা পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে লাঠিপেটা করতেও দেখা যায়।

প্যারিসের বাইরে ফ্রান্সের আরও কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লিওঁ শহরের পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে 'শহরের জন্য একটি ট্র্যাজেডি' বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র গ্রেগরি দুসে। তিনি বলেন, ভবনটি ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত হওয়ায় এ ঘটনায় শহরবাসীর হৃদয় ভেঙে গেছে।

স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, কিছু ব্যক্তি দমকলকর্মীদের আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেন। লিমোজ শহরের সিটি হলেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ভবনটির ছাদের একাংশ ধসে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাঁ-এতিয়েন শহরের মেয়র রেজি হুয়ানিকো জানিয়েছেন, গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক তরুণের হাত উড়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জে শহরে মুখোশধারী ব্যক্তিরা সহিংসতায় জড়ান। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মনপেলিয়ে ও ভালঁস শহরেও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানে লুটপাটের পাশাপাশি লিল শহরে অ্যাপলের একটি দোকানেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ফ্রান্সের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। এসব বিদ্যালয়ে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। গত শনিবার তাদের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও অন্যান্য বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী যোগ দেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত