
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে—তা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের কাছে তুলে ধরেছে ঢাকা। যদ দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র যেন আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে সেটিও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পল কাপুরের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি তার কাছে উল্লেখ করেছি, আমাদের দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, সাতজন আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘতর বা বিস্তৃত হয় তাহলে এ শঙ্কা বাড়তে পারে। তার চাইতেৃএবং একইসঙ্গে আমাদের মতো দেশের পক্ষে এই যুদ্ধের অর্থনীতিক যে প্রতিক্রিয়া হবে সেটা বহন করা দুঃসাধ্য।
খলিলুর রহমান বলেন, আমরা তাকে বলেছি, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনীতিক একটা সুযোগ দিয়ে এই সংঘাত, এই সমস্যা যেন সমাধান করার চেষ্টা করেন। যুদ্ধ কবে বন্ধ হতে পারে এ বিষয়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি বলেছেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এমন প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে সেটা তো সম্পন্ন তাদের হাতেও নাই। এটা তো কেউ বলতে পারবে না। পাল্টা উত্তরে ওই সাংবাদিক বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) শুরু করেছে। তার জবাবে খলিলুর রহমান, না, না এটা কোনো প্রশ্ন হতে পারে না।
পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ প্রথম এই নীতিতে আমরা চলব। আমাদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে বজায় রেখে অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ড নির্বাহ করব, এটা আমরা তাকে বলেছি। কাপুর আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনগুলোতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে, বিস্তৃত হবে। তিনি জানান, আমরা বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি যারা আমেরিকায় আছেন তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কথা বলেছি। প্রক্রিয়াটা যাতে সহজ হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তারা যেন আসতে পারেন সেটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনারা আমাদের সঙ্গে একমত।