ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, বেশি ঢাকায়

হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, বেশি ঢাকায়

‘সন্দেহজনক হাম’ বা হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে অতিসংক্রামক হামে মৃত্যু হয়েছে আরও এক শিশুর। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের ৯ জনই ঢাকা বিভাগের। আর অন্য দুজনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ২১ শিশু মারা গেছে। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৪১টি শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ২২৪ জনের।

এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৮। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮৮৩। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৫। গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক হাম’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই সংখ্যা ২৫৬। এরপর রয়েছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম (১২৫), রাজশাহী (৯২), খুলনা (৬৫), বরিশাল (৫০), সিলেট (২১), রংপুর (১৭) ও ময়মনসিংহ (১৫)।

সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ৫৮৫ জন ছুটিও পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৩৮ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে ১ হাজার ২৩৬ জন হাসপাতালে এসেছে। এ নিয়ে গত ২৪ দিনে হাসপাতালে আসা ৯ হাজার ৮৮৩ জনের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৮৮৩ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৪ হাজার ৬৩৫ জন।

১২ এপ্রিল থেকে ঢাকাসহ কয়েক সিটিতে হামের টিকা শুরু - স্বাস্থ্যমন্ত্রী : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। ৩ মে থেকে দেশব্যাপী এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিরতিহীনভাবে এই টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাব। জনস্বাস্থ্য সঠিক রাখার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখার জন্য এই কার্যক্রম চলবে।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য দিবসের এ অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাম পরস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে হামের টিকা পরস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর বিগত দুটি সরকারের টিকা দেওয়ার ব্যর্থতা এই বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে আমাদের লক্ষ্য ছিল ৭৬ হাজার শিশুকে টিকা নেবে, সেখানে ৭৩ হাজার শিশু টিকা নিয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দিনে টিকা দানে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত সফল হয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহ করছি। ইউনিসেফ দিচ্ছে, গ্যাবি দিচ্ছে। অন্য কোনো ফার্মের কাছ থেকে টিকা কিনিনি।

হামের জন্য নির্ধারিত মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসক-সংকট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে সচেতন আছি, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে অ্যাটাচমেন্ট বৃদ্ধি করে ডাক্তার দিয়ে যাব, টেকনিশিয়ান, নার্স বাড়ানো হবে। এটার জন্য কষ্ট হবে না। এই মহামারিকে মোকাবিলা করার জন্য শুধু ডিএনসিসি হাসপাতাল নয়, প্রত্যেক জায়গায় আইসোলেশন বেড, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বলে রেখেছি। বড় বড় হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিসরে ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইনটেনসিভ কেয়ার যেখানে আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত