
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেছেন, আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন উন্নয়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে একটি 'স্মার্ট ' বন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে, পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট, বন্দর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং, বন্দরের দুটি অসম্পূর্ণ যেটি পিপিপি মডেল অনুসরণ নির্মাণ, আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক জলযান সংগ্রহ, বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নসহ ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ এবং সার্ভিস বৃদ্ধি। এছাড়াও বন্দরের উন্নয়নে ২০২৭ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে খুলনাস্থ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দরের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য অবকাঠামো, যোগাযোগ ও নৌপথের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বন্দর আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। থাকবে ডেঞ্জারাস কার্গো ইয়ার্ড ও আধুনিক হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম। পোর্ট অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বন্দরকে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
মবক চেয়ারম্যান জানান, রামপাল থেকে আল্ট্রা সুপার পাওয়ার প্ল্যান্ট পর্যন্ত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ে একটি প্রকল্প চলমান। পাশাপাশি বয়া লেইং ভেসেল, সার্ভে ভেসেল, ফায়ার ফাইটিং ভেসেল ও পাইলট মাদার ভেসেল সংগ্রহের কাজ চলছে। ড্রেজিং ব্যয় কমাতে নদীশাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেয়া হয়েছে। জয়মনিরঘোলে টার্মিনাল নির্মাণ করা গেলে পলি জমার প্রবণতাপ্রবণ এলাকায় ড্রেজিংয়ের চাপ কমতে পারে। মোংলা বন্দরের রেললাইন পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন সম্প্রসারণ করা গেলে পণ্য সরাসরি পরিবহনের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ঢাকা-মোংলা চার লেন সড়ক ও খুলনা অঞ্চলে বিমানবন্দর নির্মাণ হলে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে।