
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, মাদ্রাসা বোর্ডে আরবি প্রথম পত্র (সাধারণ বিভাগ) ও আরবি সাহিত্য (বিজ্ঞান ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগ) এবং কারিগরি বোর্ডে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে পরীক্ষা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে ১১টি বোর্ডে মোট ২৭ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এদিন কোনো পরিদর্শক বহিষ্কার হননি। এদিনের পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে মোট ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৯ জন। শতকরা হিসাবে অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, অসদুপায় অবলম্বনের জন্য রাজশাহী বোর্ডে ১ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ২ জন, বরিশাল বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জনসহ মোট ৭ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন।
সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৫৬ জন এবং হারের দিক থেকে বরিশাল বোর্ডে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ২ হাজার ৮৪৬ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ৯৫৬ জন, যশোরে ২ হাজার ৩৬২ জন, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬৯০ জন, সিলেটে ১ হাজার ২৭৬ জন, দিনাজপুরে ২ হাজার ২৫১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের চিত্র:
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি কেন্দ্রে মোট ৮৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৭৯ হাজার ৯১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ২০২ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সর্বোচ্চ ৭ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ হাজার ২৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৮৬ জন (অনুপস্থিতির হার ২.৯০ শতাংশ) এবং এখানে বহিষ্কৃত হয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষা নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে এবার মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ খোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনব্যাপী এই লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে। পরীক্ষা না থাকার দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।