
নাটোরের বনপাড়ায় গতকাল দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পাঁচ মাস ধরে বৈধ ফিটনেস সনদ ছাড়াই মহাসড়কে চলছিল। পুলিশ ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বালুবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে ওই বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। বাসে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাসটি সাধারণত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বরগুনা থেকে ছেড়ে পরদিন ভোর ৬টার দিকে গন্তব্যে পৌঁছায়। প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয় বাসটি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর আমরা তদন্ত শুরু করেছি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দীর্ঘ দূরত্বের বাসটি গত পাঁচ মাস ধরে ফিটনেস সনদ ছাড়াই মহাসড়কে চলাচল করছিল। যথাযথ সনদ ছাড়া এত দীর্ঘ রুটে বাসটি কীভাবে চলাচল করার অনুমতি পেল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি জানান, ওই বাসের ফিটনেসের মেয়াদ গত মে মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিকে জানানো হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান মো. আবুল হায়াত জানান, বাসটি যে গত পাঁচ মাস ধরে ফিটনেস ছাড়াই চলছিল, সে বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন। তদন্তকালে কমিটি গাড়ির সব কাগজপত্র যাচাই করে দেখবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, মূল কারণ উদঘাটনের জন্য আমরা সব কাগজপত্র, সরকারি নথি এবং নিরাপত্তা শর্তগুলো খতিয়ে দেখব। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে আমরা আর কোনো মন্তব্য করব না।
যোগাযোগ করা হলে বাসের মালিক মো. মিন্টু আলী দাবি করেন, তিনি গত জুন মাস থেকে এই রুটে বাসটি চালাচ্ছেন। বিআরটিএতে কাগজপত্র হালনাগাদের আবেদন করা হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিনি বাধ্য হয়েই ফিটনেস ছাড়াই বাসটি চালাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, আমি এক বছর আগে অশোক লেল্যান্ড ব্র্যান্ডের বাসটি কিনেছিলাম এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রাইভেট ট্যুর বা পিকনিকের জন্য ভাড়া দিয়েছি। রুট পারমিট পাওয়ার পর গত চার মাস ধরে আমি এই রুটে বাসটি চালাচ্ছিলাম। দুর্ঘটনায় বাসটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে আমার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাসটি চালক ছাড়াই সুপারভাইজার বা হেলপার চালাচ্ছিলেন— এমন অভিযোগের জবাবে মালিক মিন্টু আলী দাবি করেন, গাড়িতে উপযুক্ত চালকই ছিলেন।
তার দাবি, সোহেল রানা একজন অভিজ্ঞ চালক। ড্রাইভিংয়ের সময় ক্ষণিকের অসাবধানতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রধান চালক ঘুমিয়ে থাকার সময় হেলপার গাড়ি চালাচ্ছিলেন— যাত্রীদের এমন দাবি অস্বীকার করে মিন্টু বলেন, বাসে দুজন চালক ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাত্র একজন চালক দিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের রাতের যাত্রা পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক রুটে মাঝে মাঝে বদলি চালকরা গাড়ি চালালেও তা অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্ত কমিটির প্রধান আবুল হায়াত জানান, তদন্তের সময় এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।