
বর্তমানে বাজারে কিংবা রাস্তার পাশেই দেখা মেলে টক-মিষ্টি ফল বরই বা কুল। ছোট এই ফলটি শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিতেও ভরপুর। পুষ্টিবিদরা বলছেন, বরইতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রাচীন চীনা চিকিৎসা থেকে শুরু করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যন্ত বরইকে একাধিক রোগ প্রতিরোধকারী এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষাকারী ফল হিসেবে মান্য করা হয়। চলুন জেনে নেই বরই কীভাবে আমাদের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক, এবং কেন প্রতিদিন এটি খাওয়া উচিত।
বরইতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা আমাদের দেহের কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করে। এতে আছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই সব উপাদান একসঙ্গে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তা করে এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বহুমুখী সুবিধা দেয়। বরইতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মৌসুমী সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বরই খুবই কার্যকর। বরইকে প্রাচীনকাল থেকেই রক্ত বিশুদ্ধকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতার সমস্যা কমে। এছাড়া পটাসিয়াম, জিঙ্ক ও ফসফরাস রক্ত সঞ্চালনকে সমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। বরইয়ে থাকা পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলের উপাদান রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়তে বাধা দিতে পারে। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও সহায়ক। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন অ্যান্থোসায়ানিন ও রেসভারাট্রল হৃদপি-কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর। বরইয়ের ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সুগম করে। নিয়মিত বরই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং অন্ত্র স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ব্যালান্স রাখতে সাহায্য করে। বরইয়ে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, যা ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখে। এছাড়া এটি ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে, ব্রণ প্রতিরোধ করতে এবং চুলকে মজবুত করতে সহায়ক। বরইতে থাকা ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম ও আয়রন হাড়কে মজবুত করে। নিয়মিত বরই খেলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে, অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমে। চীনের প্রাচীন চিকিৎসা অনুসারে বরই স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন এবং পলিস্যাকারাইড মন ও শরীরকে শিথিল করে। নিয়মিত বরই খেলে ঘুম ভালো হয়, স্ট্রেস কমে এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। বরই হরমোনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক। এটি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় সমানভাবে কার্যকর।