
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মেহার গ্রাম এখন কৃষি বিপ্লবের এক অনন্য উদাহরণ। চারদিকে তাকালে শুধু চোখজুড়ানো সবুজ আর মাচায় মাচায় ঝুলন্ত শত শত লাউয়ের সমারোহ। এই দৃশ্যের নেপথ্য কারিগর কৃষক নজির মিয়া, যিনি তার মাত্র ৩০ শতক জমিতে লাউ চাষ করে এলাকায় রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্য যেমন তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছে, তেমনি অনুপ্রাণিত করছে স্থানীয় বেকার যুবক ও সাধারণ কৃষকদের।
নজির মিয়া জানান, এই মৌসুমে তিনি উন্নত জাতের লাউ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে মাচা তৈরি, উচ্চফলনশীল বীজ সংগ্রহ, জৈব সারের ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যা, সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শুরুর দিকে আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রকৃতি সহায় থাকায় ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। পোকাণ্ডমাকড়ের উপদ্রব দমনে তিনি রাসায়নিকের চেয়ে প্রাকৃতিক পদ্ধতির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন, যার ফলে লাউগুলো হয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত ও উজ্জ্বল বর্ণের। বর্তমানে পাইকারি বাজারে এই লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাঠ থেকেই একেকটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দাম আরও কিছুটা বেশি। নজির মিয়ার প্রত্যাশা, বর্তমান বাজার দর স্থিতিশীল থাকলে খরচ মিটিয়ে তিনি লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারবেন। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক সময়ে সার-জল দিলে যে কোনো ফসলই ভালো হয়। লাউয়ের এই বাম্পার ফলন দেখে আমার গত কয়েক মাসের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।মেহার গ্রামের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ নজির মিয়ার লাউ ক্ষেত দেখতে আসছেন। অনেকেই এই চাষপদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, চান্দিনার মাটি সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উর্বর। নজির মিয়ার মতো প্রান্তিক কৃষকরা যদি সরকারি সহযোগিতা ও সঠিক কারিগরি জ্ঞান পান, তবে এ অঞ্চলে সবজি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই বাম্পার ফলন কেবল একজনের অর্থনৈতিক মুক্তি নয়, বরং স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নজর মিয়ার এই ৩০ শতক জমির লাউ খেত এখন শুধু ফসলের মাঠ নয়, এটি মেহার গ্রামের কৃষকদের কাছে এক সফলতার মাইলফলক।