ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার শপথ নিলেন ঢাকা-১৪ আসনের ১২ প্রার্থী

নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার শপথ নিলেন ঢাকা-১৪ আসনের ১২ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার শপথ নিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর কলেজ অডিটরিয়ামে ঢাকা-১৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

শপথের অংশ হিসেবে প্রার্থীরা বলেন, ‘আমি এই নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে এই মর্মে অঙ্গীকার করিতেছি যে, সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর প্রতিটি বিধান মানিয়া চলিব। যদি আমার বা আমার নির্বাচনী এজেন্ট বা আমার কোনো সহযোগী বা আমার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কোনো ব্যক্তি এই আচরণ বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে এতদসংক্রান্ত আইন এবং বিধিমালার বিধান অনুযায়ী প্রদত্ত শাস্তি মানিয়া লইতে বাধ্য থাকিব।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের যুগ্মসচিব সালমা খাতুন।

তিনি প্রার্থীদের সুশৃঙ্খল আচরণের প্রশংসা করে বলেন, ‘ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৪ আসন এখন পর্যন্ত একটি মডেল হিসেবে আমাদের সামনে আছে। কারণ এই ২০টি আসনের মধ্যে আজকেই প্রথম এই ধরনের একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হলো। আমরা অন্তরে ধারণ করি যে, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এখানে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

প্রার্থীদের উদ্দেশে সালমা খাতুন আরও বলেন, ‘আপনারা এখন পর্যন্ত যে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন করে এসেছেন, তা অবশ্যই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবেন। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সকলে মিলে তাকে স্বাগত এবং সম্মান জানাব।’

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘খেলার মাঠে দুটি দল থাকে, একটি বিজয়ী হয়, অন্যটি পরাজিত হয়। আমরা চাই ১২ তারিখের নির্বাচনে ফলাফল পাওয়ার পর পরাজিত প্রার্থীরা বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে মাঠ ত্যাগ করবেন। এখানে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন জিতবেন, বাকি ১১ জন হেরে যাবেন, এটাই বাস্তবতা। এই মানসিক প্রস্তুতি সবাইকে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধির তফসিল অনুযায়ী, আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল বাধ্য থাকবে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই বিধিমালা বা শপথ ভঙ্গ করে, তবে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দলকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রার্থী যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। এছাড়া অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল কিংবা ছয় মাসের কারাদণ্ডও হতে পারে। শুধু প্রার্থী নন, তার কোনো কর্মী বা সমর্থকও যদি আচরণবিধি ভঙ্গের অপরাধ করেন, তবে তাদের ক্ষেত্রেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)-সহ প্রতিদ্বন্দ্বী ১২ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত