ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

ফেনীতে তরমুজ চাষে বিপ্লব

ফেনীতে তরমুজ চাষে বিপ্লব

ফেনীতে তরমুজ চাষে এবার অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে কৃষি বিভাগ ও এলাকাবাসীর ধারণা। ফেনীর উপকূলী অঞ্চল সোনাগাজীর চরাঞ্চলে আবাদি ও অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদলের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই মৌসুমে ১৩০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। বৃষ্টি, জোয়ারসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৫১ হাজার ৯৬০ মেট্টিক টন ফলন উৎপাদনের কথা জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ ও মাঠের কৃষকরা। রমজানের শুরু থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে, দাম ভালো হওয়ায় খুশি চাষিরা। ফেনীর উপকূলীয় জনপদ সোনাগাজীর নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ চারাঞ্চল। জোয়ারের লবণাক্ত পানির শঙ্কায় একসময় বিশাল চর অনাবাদি পড়ে থাকলেও সেই চরাঞ্চলে এখন ফলছে মৌসমি ফসল তরমুজ। গাছে এসেছে ফুল, পরিচর্যায় সকাল-দুপুর পার করছেন কৃষকরা। রমজানের মাঝামাঝি থেকে ফলন ঘরে তোলার অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন কৃষক। সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন, নবাবপুর, আমিরাবাদ, সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ও চর দরবেশ ইউনিয়নের মাঠের পর মাঠউচ্চ ফলনশীল ব্লাক জায়ান্ট, বাংলালিংক, গ্লোরি ড্রাগন, ব্লাক বেরী, ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ নানা জাতের দেশি-বিদেশি তরমুজ চাষ হয়েছে।

চরের কৃষকরা জানান, চলতি এ মৌসুমে দ্বিগুণ বেড়েছে তরমুজের চাষাবাদ। বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস না হলে ফলনও ভালো হবে। চরের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় নতুন করে অনেকের চাষাবাদে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

চর দরবেশ এলাকার আবুল কালাম নামের এক কৃষক জানান, সোনাগাজীর চরে প্রতি বছর বাড়ছে তরমুজের আবাদ। এর অন্যতম কারণ হলো এখানে উৎপাদন ভালো হয়। ফলের গুণগত মানও অনেক ভালো।

সোনাগাজীর উপজেলার আদর্শ গ্রামের নিজাম উদ্দিন নামের আরেক কৃষক জানান, পাশের জেলা সুবর্ণচর থেকে তিনি এসেছেন তরমুজের আবাদ করতে। এখানের মাটির গুণগত মান ভালো হওয়ায় তরমুজ চাষাবাদ লাভজনক হয়। সোনাগাজী ছাড়াও জেলার সদর উপজেলার কালিদহ, ধর্মপুর, ছাগলনাইয়ার শুভপুর, ফুলগাজী ও পরশুরাম, দাগনভূঞার কিছু অঞ্চলেও বেড়েছে তরমুজের আবাদ। কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে চলতি মৌসুমে ফেনীতে তরমুজের উৎপাদন অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় রেকর্ড অতিক্রম করবে।

তবে চরের চাষিরা বলছেন, ২৪’-এর বন্যায় মুসাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে লবণ পানির জোয়ারের কারণে চাষাবাদে ক্ষতির সমুক্ষীণ হচ্ছেন তারা। তরমুজ নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা। ক্লোজারটি পুনঃনির্মাণের দাবি তাদের।

সোনাগাজীর কোম্পানি বাজার সংলগ্ন মাঠের কৃষক রজিম উদ্দিন বলেন, ক্লোজারটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রায় সময় সাগরের নোনাপানি ফসলের জমিতে উঠে ফসল নষ্ট করে। তরমুজের জন্য বড় ঝুঁকি এ লবণ পানি।

ফেনীর কৃষি বিভাগও জানায়, বিগত বছরগুলোর চাইতে জেলায় বেড়েছে তরমুজের আবাদ। সবচেয়ে বেড়েছে সোনাগাজী উপজেলায়। এখানকার চরের ১১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে রসালো এই ফল। অন্য উপজেলাগুলোতেও আবাদ বেড়েছে। তবে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে জোয়ারের লবণ পানি প্রবেশ নিয়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, বিগত মৌসুমে ফেনীতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল ৭৭৪ হেক্টর। চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৯৯ হেক্টর। আবাদ বেড়েছে ৫২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৯৬০ টন।

বিগত মৌসুমে ফেনীতে আবাদকৃত তরমুজের বাজার ছিল প্রায় ১৫০ কোটি টাকার। প্রতিকেজি কমপক্ষে ৫০ টাকা করে হলেও চলতি মৌসুমে তা ছাড়িয়ে ২৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ার আশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত; ২০১৭ সালে সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নে প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজের আবাদ শুরু করে এক কৃষক। ফলন ভালো হওয়ায় ক্রমান্বয়ে তরমুজ চাষাবাদ বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে এর বাজার আড়াইশ’ কোটি টাকার বেশি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত