
ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের বিধানসভায় একটি নাটকীয় আস্থা ভোটে বড় জয় পেয়েছে তামিলাগা ভেট্টি কাজগমের (টিভিকে) দলনেতা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত সরকার। সুপারস্টার অভিনেতা থেকে রাজনীতিকে পরিণত হওয়া বিজয় গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে তার দল টিভিকে জয়ী করে তামিলনাডুর রাজনীতিতে আলোড়ন তোলেন। গতকাল বুধবার রাজ্যটির বিধানসভার ভোটাভুটিতে বিজয়ের সরকারের পক্ষে সমর্থন দেন ১৪৪ জন বিধায়ক, বিপক্ষে ভোট দেন ২২ জন আর ভোটদানে বিরত ছিলেন পাঁচজন। আস্থা ভোটের তরী পার হওয়ার জন্য বিজয়ের দরকার ছিল ১১৮ বিধায়কের সমর্থন, তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়ে জয়ী হলেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ভোটের আগে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) ৫৯ জন বিধায়ক। আর বিধানসভায় তৃতীয় স্থানে থাকা আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এডিএমকে) দল ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু দলনেতা ইকে পলানীস্বামীর নির্দেশ সত্ত্বেও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জয়ললিতার দল এডিএমকের ২৫ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অটল থেকে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে সমর্থন জানান।
পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, ২৫ বিধায়কের এমন পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এডিএমকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।
ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, ‘বাঁশি (টিভিকের নির্বাচনি প্রতীক) ইতিহাস বদলে দিয়েছে। আমরা আমাদের সংখ্যালঘু সরকার বলবো। এ সরকার সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।’ টিভিকের জোটসঙ্গী কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের বিধায়কেরা সবাই আস্থা ভোটে বিজয়ের সরকারের পক্ষে ভোট দেন।
থালাপতি বিজয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাশ্মীরেও মদের দোকান বন্ধের দাবি : কাশ্মীরে মদ ইস্যু ঘিরে চলে বিতর্ক?। ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর পিতা ড. ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, রাজস্ব আয় জড়িত থাকায় জম্মু-কাশ্মীরে পুরোপুরি মদ বিক্রি নিষিদ্ধ সম্ভব নয়। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো এবং কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক, জম্মু-কাশ্মীর সরকারকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের পদক্ষেপ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে মদ নিষিদ্ধ করা যে সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়, তা বোঝাতে গিয়ে ফারুক আবদুল্লাহ ১৯৭০-এর দশকে সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের জম্মু-কাশ্মীর সফরের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘মোরারজি দেশাই মদ নিষিদ্ধের পক্ষে ছিলেন। তখন আমার বাবা, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন যে কেন্দ্র যদি রাজস্ব ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে মদ বিক্রি বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’
ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি এখনও সেই রাজস্ব ঘাটতির ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়, তাহলে জম্মু-কাশ্মীর সরকার ‘দুই মিনিটেই’ মদ বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারে।
এদিকে, পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি), জেঅ্যান্ডকে আপনি পার্টিসহ একাধিক বিরোধী দল এবং মিরওয়াইজ উমর ফারুক জম্মু-কাশ্মীরে মদ বিক্রিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছেন। তারা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন। ওমর আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘কাউকে জোর করে মদ্যপানে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না।’ এই সমালোচনার জবাবে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুধু বিধিনিষেধ আরোপ করলেই মদ্যপান বন্ধ করা যাবে না। যারা পান করতে চায়, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা কোনো না কোনোভাবে তা সংগ্রহ করবে।’
মদের দোকানের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে যখন বিভিন্ন এলাকায় এসব দোকান খোলা হচ্ছিল, তখন তারা চুপ ছিলেন কেন? আমরা মদের দোকান খুলিনি। যারা খুলেছিল, তারাই এখন প্রতিবাদ করছে।’
জেঅ্যান্ডকে আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি ওমর আবদুল্লাহ সরকারকে তামিলনাড়ু সরকারের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় দেখিয়ে দিয়েছেন প্রকৃত জননেতৃত্ব কাকে বলে। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টভাবে সেই জনগণের ইচ্ছা ও আবেগের প্রতিফলন, যারা তাঁকে নির্বাচিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি রাজ্যজুড়ে মন্দির, স্কুল ও বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।’
বুখারি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এই সিদ্ধান্ত জম্মু-কাশ্মীর সরকারের জন্যও সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে রাজনৈতিক দলগুলো এখন দোষারোপের খেলায় মেতে উঠেছে। শাসকদল বলছে, ক্ষমতায় থাকাকালে পিডিপিও মদ নিষিদ্ধ করেনি। সেটা সত্য হতে পারে। কিন্তু তাই বলে এবার বিপুল জনসমর্থন পাওয়া এনসিকেও পিডিপির পথ অনুসরণ করতে হবে, এমন তো নয়।’
কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, জম্মু-কাশ্মীর মুসলিমণ্ডঅধ্যুষিত অঞ্চল এবং এখানে মদ্যপান ‘সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নিরুৎসাহিত।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের বেশ কয়েকটি অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যও সমাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ৭০০টি মদের দোকান বন্ধ করা।’
মদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দাবি করে মিরওয়াইজ বলেন, ‘মাদকচক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না, যদি মদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। কারণ এটিও পরিবার ধ্বংস করছে।’