
বর্ষাকালে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বেড়ে যায়। এর কারণ হলো, এই অত্যন্ত আর্দ্র আবহাওয়া খাদ্যবাহিত রোগ এবং দ্রুত খাদ্য নষ্ট হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এই সময় কিছু নির্দিষ্ট খাবার সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া প্রয়োজন। মাশরুমকে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। বর্ষাকালে মাশরুম খাওয়া নিরাপদ কি না, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
বর্ষাকালে মাশরুম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ, যদি সেগুলো টাটকা, সঠিকভাবে সংরক্ষিত, ভালোভাবে রান্না করা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে কেনা হয়। মাশরুমে প্রোটিন, ফাইবার, বি ভিটামিন, সেলেনিয়াম, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো পুষ্টি উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। তবে বর্ষাকালে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয় যা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীবের বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে মাশরুম স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
বর্ষাকালে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো খাদ্যদূষণ। মাশরুমে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং এটি পরিবেশ থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে, ফলে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নষ্ট মাশরুমের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে পিচ্ছিল ভাব, কালচে রং, তীব্র দুর্গন্ধ বা দৃশ্যমান ছত্রাকের বৃদ্ধি। নষ্ট মাশরুম খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ যেমন বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং জ্বর দেখা দিতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট শিশুদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ তারা খাদ্যবাহিত সংক্রমণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বুনো মাশরুম বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ কিছু বিষাক্ত জাত দেখতে খাওয়ার যোগ্য মাশরুমের মতোই হয়। সেগুলো খেলে গুরুতর অসুস্থতা বা প্রাণঘাতী বিষক্রিয়াও হতে পারে। তাই বন, মাঠ বা রাস্তার ধার থেকে মাশরুম সংগ্রহ করার চেয়ে বিশ্বস্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাশরুম বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।