ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

* সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার উপরে * উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি * টাঙ্গাইলে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধে ধস, জিও ব্যাগ ফেলে ঠেকানো চেষ্টা * নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে আকস্মিক বন্যা
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সোমবার কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি তিনটি জেলার চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে প্রবাহিত হচ্ছিল বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল।

এছাড়া নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমার পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কমেছে। তবে নদী দুটির পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদী দুটির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আর যেসব এলাকায় বন্যা চলছে, সেসবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

ভারতের মণিপুর রাজ্যের আঙ্গামি নাগা পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত হয়। এ দুই নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করে, যা চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী ২ দিন বাড়তে পারে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনায় ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদী এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।তাতে নদী লাগোয়া নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর যেসব এলাকায় বন্যা চলছে, সেসবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

এদিকে যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, সারি গোয়াইন ও ভোগাই নদীর উজানে ভারতের মেঘালয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ ও তুরায় ১০১ ও আর কে এম সোহরায় ২৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া আসামের গোয়াহাটিতে ১৩৮ এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাছাড়া দেশের ভেতরে চট্টগ্রাম বাদে সব বিভাগে ভারি বৃষ্টির আভাস রয়েছে।

উত্তরের পরিস্থিতি : বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরে রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২ দিনে তা আরও বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে গিয়ে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এর ফলে আগামী দুই দিনে নদীগুলোর কিছু স্থানে বিপৎসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী লাগোয়া নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও আকস্মিক অথবা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। গত একদিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গার পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে পদ্মার পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। আগামী পাঁচ দিন এসব নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী তিন দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী লাগোয়া নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের করতোয়া, আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানি গত একদিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসময়ে করতোয়া ও ছোট যমুনা নদীর পানি সমতল হাস পেয়েছে, যা আগামী তিন দিনে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তিন দিনের মধ্যে নওগাঁ ও নাটোরে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর কিছু স্থানে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী লাগোয়া নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে সাঙ্গু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে হালদা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে; আর মাতামুহরীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এসব নদীর পানি আগামী একদিন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী দুদিন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি : উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৮ টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধে ধস, জিও ব্যাগ ফেলে ঠেকানো চেষ্টা : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের একশ মিটার অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া উপজেলার সাখারিয়া এলাকায় রোববার থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙন ঠেকাতে সোমবার দুপুর থেকে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলছেন শ্রমিকরা। তবে নদীর প্রবল স্রোত থাকায় বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি কেবল সাময়িক উদ্যোগ। স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছরই একই সংকট ফিরে আসবে।

সড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষ। এর মধ্যে সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। যে কোনো সময় ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, ভোগান্তি এবং জনদুর্ভোগ।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদী শাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই দ্রুত একটি টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সালিম আহমেদ, কয়েকদিন ধরেই যমুনার তীব্র স্রোতে নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে মহাসড়ক গ্রাস করতে পারে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কার কথা বলেছেন স্থানীয় শিক্ষিকা আঞ্জু আনোয়ারা (ময়না)।

যমুনায় একটি স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা হলে সড়ক এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে বলে বিশ্বাস এই শিক্ষিকার।

বাঁধে ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মাঈন উদ্দীন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে গাছের গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের যেসব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো মেরামত করলেই সড়ক নিরাপদ থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে আকস্মিক বন্যা : ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করায় বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অনেক সড়ক, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। গতকাল সোমবার সকালে কলমাকান্দার খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নে দেখা যায়, মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে ঢলের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে ঢুকছে। খারনই ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কটির অন্তত ২০টি স্থান তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, দুর্গাপুরে গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত থেকেই হঠাৎ সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করে।

খারনই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, ‘গভীর রাত থেকে নদী ও নালা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি ঢুকছে। বাড়িঘরের ভেতর দিয়েও পানি যাচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’ একই রকম ক্ষতির কথা জানিয়েছেন রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।

দুর্গাপুরের গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘নেতাই নদীর পানি প্রবল স্রোতে ঢুকছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে দিনের মধ্যেই বাড়িঘর প্লাবিত হবে।’

নেত্রকোণা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখওয়াত হোসেন বলেন, ‘অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কলমাকান্দার উবদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া নেতাই নদীর পানি বাড়ায় দুর্গাপুরের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।’ কলমাকান্দার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুজ্জামান আসিফ বলেন, প্রশাসনের একটি দল এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছে। আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত