
করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে কারাগারে যাওয়া সেই রিজেন্ট হাসপাতালের মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে আবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান। সাহেদের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে তিনি জানান। পল্লবী থানার পুলিশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি। প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা ছিল। সব কটিতেই পর্যায়ক্রমে জামিন পান তিনি। জামিনের প্রায় চার বছর পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান।
সাহেদের নাম আলোচনায় আসে করোনা মহামারির সময়। ২০২০ সালের ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র্যাব। এই হাসপাতালের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহেদ। এই হাসপাতাল থেকে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে সাহেদসহ ১৭ জনের নামে করোনার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে।
মামলার ৯ দিনের মাথায় ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর তাঁকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে সংস্থাটি। পরে সাহেদের বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। ওই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস পান সাহেদ। তবে গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এক মামলায় ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট সাহেদকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। আর ১৪ বছর আগে ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তাঁর ছয় মাসের সাজা হয়েছিল।
সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনেও একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাহেদ মানুষ ঠকিয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছিলেন। রিজেন্ট হাসপাতালে পরীক্ষা না করেই ভুয়া সনদ দিয়ে তিনি ৩ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ২২৭ টাকা হাতিয়ে নেন। এর বাইরে তাঁর অন্যান্য প্রতারণা ছিল অভিনব।