ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পুঁইশাক খুবই উপকারি

পুঁইশাক খুবই উপকারি

বর্ষাকালে শাক-পাতা খাওয়া নিয়ে নানা সতর্কবার্তা শোনা যায়। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এ সময়ে শাকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অনেকেই বর্ষাকালে শাক খাওয়া এড়িয়ে চলেন। তবে সব শাকের ক্ষেত্রে এই ভয় সমান নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিকভাবে পরিষ্কার করে রান্না করলে পুঁইশাক বর্ষাকালেও নিরাপদে খাওয়া যায়। সহজলভ্য, সস্তা এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এ শাক বর্ষার খাদ্যতালিকায় নিশ্চিন্তে রাখা যেতে পারে।

ডায়েটিশিয়ান মতে, পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এ, বিওসি। পাশাপাশি এতে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। তাই এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।

হজম ভালো রাখে : পুঁই শাকের অন্যতম বড় গুণ হলো এতে থাকা প্রচুর খাদ্যআঁশ। এই ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। এমনকি পুঁই শাকের বীজও প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে : পুঁই শাকে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন কে হাড়ের মেট্রিক্স প্রোটিন সক্রিয় করে এবং শরীরে ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমায়। ফলে নিয়মিত পুঁইশাক খেলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

অবসাদ কমাতে সহায়ক : শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী এই শাক। এতে থাকা ফোলেট মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুঁইশাক খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ কিছুটা কমতে পারে এবং মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ত্বক ও চুলের যত্নেও উপকার : পুঁইশাকে থাকা ভিটামিন এ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং স্ক্যাল্পের তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অতিরিক্ত সিবাম নিঃসরণ কমায় বলে ব্রণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক হওয়ায় ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে ভূমিকা রাখে।

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর : পুঁইশাকে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ক্লোরোফিল, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লোরোফিল কিছু ক্ষতিকর কার্সিনোজেনের প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, তবুও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পুঁইশাক উপকারী।

পুঁইশাক খাওয়ার আগে যা করবেন : বর্ষাকালে পুঁইশাক খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। এক লিটার পানিতে ১০-১৫ মিলিলিটার ভিনিগার মিশিয়ে সেই পানিতে কয়েক মিনিট পুঁইশাক ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। এতে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীর ঝুঁকি অনেকটাই কমে। ভিনিগার না থাকলে লেবুর রসও ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে শাক কখনোই গরম পানিতে ধোয়া উচিত নয়। এতে শাকের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের একটি অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করার পর রান্না করে খেলেই বর্ষাতেও নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারবেন পুষ্টিগুণে ভরপুর পুঁইশাক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত