ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভিটামিনের অভাবে পায়ে ব্যথা

ভিটামিনের অভাবে পায়ে ব্যথা

চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিনের অভাবে স্নায়ু, পেশী, হাড় ও রক্তসঞ্চালনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলেই ধীরে ধীরে পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিনি, দুর্বলতা কিংবা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।

ভিটামিন বি১২ : পায়ের ব্যথার অন্যতম পরিচিত কারণ হলো ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি। এই ভিটামিন স্নায়ুর সুরক্ষা এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লোহিত রক্তকণিকা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। যখন শরীরে ভিটামিন বি১২ কমে যায়, তখন স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে পায়ে অসাড়তা, ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।

ভিটামিন ডি : ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। তাই এটি হাড় ও পেশি সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি এ ভিটামিন স্নায়ুর কার্যকারিতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পেশির শক্তি বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে হাড়ে ব্যথা, পেশিতে দুর্বলতা এবং বিশেষ করে পা ও হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি থাকলে হাঁটাচলাও কষ্টকর হয়ে যেতে পারে।

ভিটামিন বি৬ : ভিটামিন বি৬ স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব বা ঝিনঝিনি দেখা দিতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-শুধু ঘাটতিই নয়, অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ গ্রহণও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

ফোলেট বা ভিটামিন বি৯ : ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে এবং স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্যও প্রয়োজনীয়। শরীরে ফোলেট কমে গেলে রক্তাল্পতা হতে পারে। এতে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং পায়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সবুজ শাকসবজি, ডাল, শিম ও বিভিন্ন ফলে প্রাকৃতিকভাবে ফোলেট পাওয়া যায়।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়া : পায়ের ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, বিশ্রাম নেওয়ার পরও না কমে, অথবা এর সঙ্গে অসাড়তা, ঝিনঝিনি, পেশি দুর্বলতা বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয় করা যেতে পারে।

প্রতিরোধ : ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে সুষম খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মাছ, ডিম, দুধ, মাংস, সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও ফল খেলে প্রয়োজনীয় অনেক ভিটামিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকলে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো। কারণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন গ্রহণও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সব পায়ের ব্যথার কারণ যে শুধু আঘাত বা বয়সজনিত সমস্যা, তা নয়। ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি৬ এবং ফোলেটের ঘাটতিও দীর্ঘস্থায়ী পায়ের ব্যথার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে অবহেলা না করে কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত