ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে না

বললেন নাহিদ ইসলাম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে না

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা 'সম্ভব নয়' বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি আছেন, তিনি বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা দেখেছি সংস্কার ইস্যুতেও তিনি জাতির সাথে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন। এবং আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ইস্যুতেও যখন সংসদে তাকে প্রশ্ন করা হতো, তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হত, তিনি তখন এটা পল্টনের বক্তব্য, এটা রাজপথের বক্তব্য— এরকম নানা কিছু বলে কিন্তু তিনি কথা এড়িয়ে যেতেন এবং এক ধরনের বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করতেন।

'তো আজকেও কিন্তু পুরো জনগণের সামনে স্পষ্ট যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ আসলে ঠিক নেই এবং এটার জন্য বর্তমান সরকার, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারা দায়ী। আমরা মনে করি দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে— এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে এটা সম্ভব নয়।' গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'বিএনপির সারাদেশে যে নৈরাজ্য এবং তাণ্ডব, দখলবাজি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি— ৫ অগাস্টের পর থেকে, ৬ অগাস্ট '২৪ থেকে শুরু করেছিল, সেটারই ধারাবাহিকতা আমরা এই মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও যে ভাঙচুর হলো, এই দুটি ঘটনায় আমরা দেখতে পেলাম যে কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

'আমরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর ঘটনাটা দেখলাম, সেখানে এখন ভিকটিমকে ব্লেমিং করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে একটা ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে, যেখানে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। প্রশাসন সেটাকে বাধা দিতে পারে নাই, সেটাকে বন্ধ করতে পারে নাই। এখন নানাভাবে সেটা কারা হামলা করেছে বা ভিকটিমের দায় কী— এই ধরনের অনেক নাটক সরকার সাজাচ্ছে। এবং এই দুটি ঘটনা হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে; কিন্তু সারাদেশের পরিস্থিতি কিন্তু এইটা।"

'প্রহসনমূলক' সংবিধান সংশোধনী কমিটি, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর, বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির 'ভয়াবহ অবনতি', স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এ সম্মেলন আয়োজন করে এনসিপি। এতে সঞ্চালনা করেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি সভা করে এনসিপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গত বৃহস্পতিবার ভাষণ দেন। সেই বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপিপ্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, "জাতিসংঘে যে বক্তব্য তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিয়েছেন, আমরা মনে করি যে জনগণের প্রত্যাশা সেখানে উঠে আসেনি, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উঠে আসেনি। সেখানে তিনি তার দলীয় যে ইশতেহার, যে এজেন্ডা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড— এই ধরনের অনেকগুলা কিছু বলেছেন, যেটা অলরেডি এই প্রকল্পগুলো দেশে ব্যর্থ বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

'ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা ছিল, কর্মসংস্থানের কথা ছিল— এগুলা কিছুই হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডের নামে হরিলুট হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের নামে দলীয় লোকরা ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে। যত ধরনের কার্ড হয়েছে, এগুলো সব দলীয় কার্ডে পরিণত হয়েছে। যাই হোক, এটা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল, এটা আমরা দেশে সমালোচনা করি। কিন্তু এটা তো আর বিশ্বমঞ্চে বলার কিছু নয়।'

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্বমঞ্চে যে বলার বিষয়গুলো ছিল, উনি একটাও ঠিকমতো অ্যাড্রেস করেন নাই। আমাদের এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট চলতেছে এবং এটার জন্য উনারাই বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বা যুদ্ধটা দায়ী। আমরা যে জ্বালানি পাচ্ছি না, একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের যে সাফার করতে হচ্ছে, তাহলে সেই বিষয়টায় উনি ঠিকমতো তুলে ধরেন নাই এবং সেখান থেকে বাংলাদেশ কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহল যাতে এটাতে উদ্যোগ নেয়, যাতে পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো আসতে পারে বাংলাদেশের, আমরা যাতে জ্বালানি পাই— সে বিষয়ে উনি কিন্তু আন্তর্জাতিক মণ্ডলে সবার সাথে তুলে ধরতে পারেননি।'

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা। সে নির্বাচন দফায় দফায় পেছানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন দলীয়করণ করে নির্বাচনটাকে যাতে ফেয়ার না হয়, সরকার সে ধরনের বন্দোবস্তের চেষ্টা করছে।

"আমরা এটা স্পষ্টভাবে বলব, যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ন্যূনতম এখানে আশঙ্কা তৈরি হয় যে— এই নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না, নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হবে; তাহলে কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মত দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভেবে আমরা বসে থাকব না। আমরা এটা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব।'

সংবিধান সংশোধনী কমিটি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশোধনের নামে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে ধুলিসাৎ করার একটা চেষ্টা হচ্ছে এই কমিটি। 'আমরা রাষ্ট্রের কসমেটিকসের সার্জারি চাই না। আমরা চাই মৌলিক সংস্কার।'

এর আগেও ১৭ বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, 'কোনোটাই মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই আমরা বলব যে, দ্রুত সময়ে এই নাটক বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে।' প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অনেকেই নিয়োগপত্র পাননি অভিযোগ তুলে জেলায় জেলায় আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এনসিপি প্রধান নাহিদ বলেন, 'প্রায় আড়াই হাজার জনকে চাকরি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম— এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই।'

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহযোদ্ধাদের অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই চাকরি প্রার্থীদের পাশে এনসিপি আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'যদি একজন চাকরি প্রার্থীকে অন্যায্যভাবে এই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়ব।' সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সর্বোচ্চ পরিষদ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত