ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

সিরাজগঞ্জে আখের ভালো ফলন কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জে আখের ভালো ফলন কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জে এবার বিভিন্ন জাতের আখ চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। শীত শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে এ আখ মাড়াইও শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই এ নতুন গুড় হাট-বাজারে উঠেছে। এতে দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এসব আখের মধ্যে রয়েছে আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি ও বোনসহ বিভিন্ন জাতের আখ। কয়েক মাস আগে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের এসব আখ সংগ্রহ করে (৩ চোখের ডাং) জমিতে রোপণ করে এবং বিশেষ করে উঁচু ও দোআঁশ জমিতে এ চাষাবাদ করা হয় এবং ৩/৪ বছর মেয়াদি আখের মোতা থেকে এ চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। অর্থাৎ একবার আখ চাষ করলে এ দীর্ঘমেয়াদি মোতা থেকেই পুনরায় আখ গজায় এবং কম খরচে মোতা থেকে আখ চাষাবাদে বেশি লাভবান হয়।

এ আখ চাষ চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে এ আখ মাড়াই করে গুড় তৈরি হচ্ছে এবং এরমধ্যেই এ নতুন গুড় বাজারেও উঠছে। অসৎ কৃষকরা আটা, চিনি ও সোডা মিশিয়ে ভেজাল গুড়ও তৈরি করছে। তবে আটা চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি ভেজাল নয় বলে কৃষকরা দাবি করছেন। স্থানীয় কৃষকরা বলেছেন, শীত মৌসুমে আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরি করা হয়। এবার শীতের আগেই প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং খাঁটি গুড় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক প্রতিবিঘা জমির আখ (ক্ষেত ধরে) ৪০-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হয় কৃষকর। এজন্য এ লাভজনক চাষাবাদ প্রতিবছরই বাড়ছে। শহর-বন্দরসহ বিভিন্ন যানবাহনেও এ আখ বিক্রি হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের উপর মেশিনে ভাঙানো আখের রসের কদরও কম নয়। প্রতি গ্লাস রস এখন ১৫/২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পারপাঁচিল গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে এবং বেশিরভাগ আখের মোতা থেকেই এ আখ চাষাবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ আখ মাড়াই করে নতুন গুড় তৈরী করা হে"ছ এবং দাম ভালো থাকায় বেশি লাভের আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার আখ চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে এ চাষাবাদে লাভ বেশি। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ চাষাবাদে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই এ আখ মাড়াইও শুরু হয়েছে এবং ভালো দাম থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পুরো শীতে এ আখ মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত