ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ড্রোন-হেলিকপ্টার

গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ড্রোন-হেলিকপ্টার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিবছর এই উৎসব ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপ্রীতিকর কিছু খবর সামনে আসে। কিছু ঘটনার সত্যতা থাকলেও বেশি ছড়ায় গুজব ও অপপ্রচার। উৎসব তখন হয়ে ওঠে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবারের পূজায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ঠেকানোয় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত একটি অ্যাপের মাধ্যমেও তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলেও জানা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পূজার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা ও উৎসব ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ায় সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। পূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পরবর্তী সময়ে— এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ টিম প্রস্তুত থাকবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্গাপূজা টার্গেট করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান। কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি: পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, পূজা কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ সচেষ্ট। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

জানা যায়, দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর ও অন্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এসব পূজামণ্ডপে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের কথা বলা হলেও বাহিনীগুলোর তৎপরতায় বেশ খানিকটা স্বস্তির কথা প্রকাশ করছেন সনাতনী নেতারা। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, 'দুর্গাপূজা ঘিরে আমি কোনো আশঙ্কা বা শঙ্কা দেখছি না। বরং অন্য বছরের তুলনায় এবার অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্?যাপিত হচ্ছে। সংখ্যাও বেড়েছে। সব পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে পূজার উৎসব শুরু হয়ে গেছে।' তিনি বলেন, 'দু-চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো ঘটেছে, সরকার এগুলোর ব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে, সামনে আরও নেবে। আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনও সংগঠিত। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই এই পূজার উৎসবে অংশ নেবে, আনন্দ ভাগাভাগি করবে। আমার মনে হয় এবার খুব ভালোভাবেই পূজার উৎসব উদযাপন হবে। সরকারও এ ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।' হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার বলেন, 'দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে কেউ প্রতিমা ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত