
সারাদিন না খেয়ে থাকা সুস্থ জীবনযাপনের প্রবণতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এটি শরীরকে নতুন করে সতেজ করতে, ওজন কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করতে সক্ষম। খাবার থেকে বিরত থাকলে শরীরে অভ্যন্তরীণ অনেক পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। শরীর ধীরে ধীরে শক্তি পাওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করে। এর কারণ হলো, আপনার খাওয়া খাবার হজম হওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করে। তখন শরীর প্রথমে রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখার জন্য লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন নামক গ্লুকোজ ব্যবহার করে।
এরপরে এটি শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং কিটোন নামক পদার্থ তৈরি করে। একই সময়ে, সঞ্চিত শক্তি মুক্ত করতে সাহায্য করার জন্য গ্লুকাগনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তনগুলো সাধারণত ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, কিন্তু কেউ কেউ ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব বা হালকা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন, বিশেষ করে যদি তারা না খেয়ে থাকায় অভ্যস্ত না হন।
বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য সারাদিন না খেয়ে থাকা সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দেয় না, কারণ যকৃত ক্রমাগত রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস রোগী, যারা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলা, শিশু, দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তি। এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া), ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।