ঢাকা রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

উপকারী লাল ভাত

উপকারী লাল ভাত

ব্রাউন রাইসের বাইরের ব্রান স্তর অক্ষত থাকে। এ স্তরেই থাকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ (ফাইবার), ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। অন্যদিকে সাদা চাল তৈরির সময় এ বাইরের স্তর সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হারিয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এ কারণেই লাল ভাত শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতাও কমে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে লাল ভাতকে অনেকেই খাদ্যতালিকায় রাখেন। কারণ এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম ধীর করে এবং দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি অনুভব করায়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে। এছাড়া লাল ভাতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাদা ভাতের তুলনায় কম। অর্থাৎ এটি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় না। এতে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সুবিধা হয়।

তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু লাল ভাত খেলেই ওজন কমে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার, যেমন লাল ভাত নিয়মিত খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো এতে থাকা ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়াম, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্?স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে অথবা দীর্ঘদিন কম ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস, তারা হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে লাল ভাত খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করা উচিত। পাশাপাশি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত