ঢাকা রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আইনগত কাজ করতে গেলে মানুষ ভুল বোঝে। তারা মনে করে এরা ৫ আগস্টের আগের পুলিশ, তারা কেন গ্রেপ্তার করবে, রাস্তা ছেড়ে দিতে বলবে। নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সমাজের সম্পূর্ণ সমর্থন না পেলে আমি নির্বাচন করতে পারব না।

গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে রংপুর বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের বলেছি, নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগে আমাকে সমর্থন ও গ্রিন সিগন্যাল দিতে হবে। আমি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে চাই।

এনসিপি কিংবা বড় দলের নেতারা আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে কথা বলবে এমন ভয়ে থাকলে পুলিশ সদস্যরা ঠিকমত কাজ করতে পারবে না। আমরা যদি অন্যায় করি তবে অবশ্যই আপনারা আমাদের ধরবেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা আমাদের দায়িত্ব। পুলিশের সঙ্গে ৬ লাখ আনসার থাকবে। এছাড়া নির্বাচন পূর্ব সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী আমাদের সঙ্গে রয়েছে।

বর্ডারগার্ড, কোস্ট গার্ড অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল, নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি, জুলাই-আগস্টে বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী শহিদ হয়েছে। লোভী, দলকানা পুলিশ সদস্যের কারণে আমাদের উপর অনেক দায়ভার এসেছে। এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, মনোবল বৃদ্ধি করা, তাদের কাজে ফিরিয়ে আনার জন্য গত এক বছর ধরে চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, অপরাধ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা যায় না। প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হত্যা সংঘটিত হয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন একজন মানুষও মারা না যায়।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড আমাদের সারা জাতিকে উদ্বেলিত করেছে। আমাদের উপর দায়ভার এসেছে এটির সুষ্ঠু সমাধান ও বিচার করার। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। খুলনা অঞ্চলে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। আমরা অধিকাংশ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করতে পেরেছি। আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে-সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করে আসছে। তবে সুযোগ সন্ধানীরা যদি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে আমরা যতটা পারি তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করি। জুলাই-আগস্টের পর অনেক জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মাজারে আক্রমণ ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি ঘটনায় মামলা করে দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিতে। কিন্তু আমাদের বিচার ব্যবস্থা এমন যে কোনো বিচার করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হত্যাকাণ্ডের মামলায় তিন ভাগের একভাগ বিচার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত