ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘হাদি হত্যার বিচারের ব্যাপারে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই’

‘হাদি হত্যার বিচারের ব্যাপারে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই’

শহিদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের ব্যাপারে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই।

সংসদে দুই-একজন ছাড়া কেউ তার বিষয়ে কথা বলে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও এ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই’ এমন মন্তব্য করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে শহিদ শরীফ ওসমান হাদির বিচারহীনতার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মাসুমা হাদি বলেন, ভারতে ওসমান হাদির খুনিরা ধরা পড়লেও তাদের কীভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে, সে বিষয়ে তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কোনো তৎপরতা নেই। তিনি মোটামুটি মীর জাফরের ভূমিকায় রয়েছে। আমরা কোনো মীর জাফরকে দেখতে চাই না। হাদির বাংলাদেশে আর কোনো মীর জাফর টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচনের জন্য ঢাকা-৮ আসন রক্তাক্ত হলো, বাংলাদেশের মাটি রক্তাক্ত হলো, সেই বাংলাদেশে ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না।

আমরা কারও দাসত্ব মেনে নেব না। আমরা হাদি হত্যার বিচার নিয়েই ঘরে ফিরবো।

মাসুমা হাদি বলেন , ওসমান হাদি একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ইনসাফের জাল বুনতে চেয়েছিলেন। নিজের শত্রুকেও ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে চেয়েছিলেন। অথচ আজ তার নিজেরই বিচার নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সহযোগিতায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা কীভাবে সীমান্ত পার হলো, কোথায় পালিয়ে গেল- সবকিছু রাষ্ট্রকে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেকেই বলি ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল। কিন্তু ফয়সালের একার এত বড় সাহস হওয়ার কথা নয়। তাকে কারা সহযোগিতা করেছে, কারা নিরাপদে পালানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে- সব জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।

মাসুমা হাদি বলেন, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চায়। তারা অনেক দৈর্য ধারণ করেছে। ওসমান হাদি এখন আমার একার ভাই না। ওসমান হাদি মানেই বাংলাদেশ। আমার হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ঘরে ফিরবো।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে ওসমান হাদির ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেন হাওলাদারসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত