ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’

‘নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’

নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো যে ইশতেহার দেয়, অঙ্গীকার করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘এই যে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি-এগুলো বললে তারা (রাজনৈতিক দল) একটু হাসবে হয়তো। কারণ, এগুলো তাদের অভ্যাস। এই ধোঁকাবাজিটা তাদের রাজনীতিরই একটা অংশ।’ গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পাটকল চালুর দাবিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ’–এর ব্যানারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এমনিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিল নেই, একজন আরেকজনকে দেখতে পারে না। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো বন্ধ করা বা বেসরকারীকরণ করার মতো নীতিগুলোর কোনো ধরনের পার্থক্য পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দলগুলো বলে যে তারা এগুলো চালু করবে। এটা কিন্তু তারা নিজেরাও জানে যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এগুলো তারা চালু করতে পারবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের এই ধারা আশির দশক থেকে চলছে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এর পেছনে একই কাঠামো বারবার কাজ করে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, আমলাতন্ত্র ও বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। এরাই নীতি প্রণয়ন করে। তাঁর ভাষায়, নীতি প্রণয়নকারীদের কোনো পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন হয় শুধু বাস্তবায়নকারীদের চেহারার। এ কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় না। পাটকলশ্রমিকদের প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটকলশ্রমিকেরা। শ্রমিকদের শ্রমের প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করা কঠিন কোনো বিষয় ছিল না, কিন্তু তা পরিশোধ করা হয়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত