
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের দু'টি নিলামে ১৩৩টি লটের পণ্য বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত নিলামে ৪৫টি এবং বিশেষ নিলামে ৮৮টি লট অনুমোদন পেয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক দু'টি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নিলাম কমিটির সভার সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশনারের অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় নিয়মিত নিলামে মোট ১০৩টি লটের বিপরীতে ১৪৮টি কনটেইনারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি লটের ৭৩টি কনটেইনার বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে। একটি লট বাতিল, দু'টি লটের নয়টি কনটেইনার সাময়িক স্থগিত এবং ৪৬টি লট অননুমোদিত রাখা হয়েছে। এছাড়া নয়টি লটের ১৩টি কনটেইনারের বিপরীতে কোনো দর প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিশেষ নিলামে ৯২টি লটের বিপরীতে ২৭৮টি কনটেইনারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি লটের ২৭৪টি কনটেইনার বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে। একটি লট সাময়িক স্থগিত এবং তিনটি লট বাতিল করা হয়েছে। বিক্রয় আদেশ অনুযায়ী, অনুমোদিত লটের ক্রেতাদের আদেশ প্রকাশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত মূল্য, প্রযোজ্য আগাম আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করে পণ্য খালাস নিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করলে গুদাম ভাড়া দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করতে না পারলে কারণ উল্লেখ করে কমিশনারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। কমিশনার সর্বোচ্চ সাত দিন অতিরিক্ত সময় দিতে পারবেন।
বিশেষ পরিস্থিতিতে রাসায়নিক পরীক্ষা বা অন্যান্য শর্ত পূরণের জন্য যুক্তিসংগত অতিরিক্ত সময় দেওয়া যেতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত ও বর্ধিত সময়ের মধ্যেও পণ্য খালাস না করলে বিধি অনুযায়ী গুদাম ভাড়া আদায় করা হবে। পাশাপাশি বিক্রয় অনুমোদন বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। পণ্য খালাসের আগে আমদানি নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান ও ব্যবহার উপযোগিতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের বিবরণ ও ওজন নিশ্চিত করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পণ্যের সম্পূর্ণ বিক্রয়মূল্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে সরবরাহ আদেশে সংশ্লিষ্ট শাখার প্রত্যয়ন নিতে হবে। সরবরাহ আদেশ গ্রহণের আগে পণ্যসংক্রান্ত শর্ত, নিষেধাজ্ঞা, মামলা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। পণ্য সরবরাহের সময় কোনো অসংগতি দেখা দিলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে কমিশনার যেকোনো পণ্যের বিক্রি অনুমোদন, স্থগিত বা আংশিক বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বলেন, নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে। অনুমোদিত লটের ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে পণ্য খালাস নিতে হবে।