
চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা যাত্রীর কাছ থেকে আমদানিনিষিদ্ধ ১ হাজার ৩০০ পিস রং ফর্সাকারী 'গৌরী' ক্রিম জব্দ করেছেন বিমানবন্দরে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এসব ক্রিম জব্দ করা হয়। ক্রিমগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, 'শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে আসেন মোহাম্মদ জাহেদ নামে এক যাত্রী। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। বিমানবন্দরে তার সন্দেহজনক আচরণ নজরে আসায় গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আমদানিনিষিদ্ধ ১ হাজার ৩০০ পিস 'গৌরী' বিউটি ক্রিম জব্দ করা হয়।' তিনি বলেন, 'প্রতি পিস ক্রিমের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৫০ টাকা। সে হিসাবে এসব পণ্যের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য হওয়ায় ক্রিমগুলো ডিএম মূলে জব্দ করা হয়। পরে এসব ক্রিম বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ওই যাত্রী প্রথমবার এসব ক্রিম আনার ঘটনায় জড়িত হওয়ায় তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
ইব্রাহীম খলিল আরও জানিয়েছেন, আমদানিনিষিদ্ধ পণ্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ এবং স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, কাস্টমস ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত আছে। মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০২০ সালে আটটি রং ফর্সাকারী ক্রিমে ক্ষতিকর মাত্রায় পারদ ও হাইড্রোকুইনোন পায়। এসব প্রসাধনী ব্যবহার করলে চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে, এমন সতর্কতা জারি করে সেগুলো বিক্রি, বিপণন ও আমদানি নিষিদ্ধ করে সংস্থাটি।
এই আটটি ক্রিমের একটি হলো গৌরী ক্রিম। আমদানিনিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বৈধপথে গৌরী ক্রিম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আকাশপথে যাত্রীদের মাধ্যমে এই ক্রিম আনা শুরু হয়। এটি পাকিস্তানে তৈরি হয়। অর্থাৎ পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে চট্টগ্রামে আসে।