প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মাহে রমজান অবারিত রহমত, বরকত ও ক্ষমার ফল্গুধারায় সিক্ত হওয়ার মাস। মহামহিম স্রষ্টার শাহি দরবারে নিজের চাওয়াগুলো একান্তে পেশ করার মাস। আল্লাহর কাছে চাওয়াটাও একটি ইবাদত। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মোমিন : ৬০)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, (বলো) আমি কাছেই, যখন কেউ আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা : ১৮৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হন।’ (তিরমিজি : ৩৩১৯)। মহান আল্লাহর শাহি দরবার বান্দার জন্য সদা উন্মুক্ত। তিনি সবসময় সবার প্রার্থনা শোনেন, সাড়া দেন। দিনরাতের যেকোনো সময় বান্দা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে পারে। তবু প্রতিশ্রুত কিছু মুহূর্ত আছে, যখন আল্লাহতায়ালা বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল করে থাকেন। এমন কয়েকটি মুহূর্তের কথা প্রিয় নবী (সা.) বর্ণনা করেছেন। পবিত্র রমজানে সে মুহূর্তগুলো মহামহিম রবের পক্ষ থেকে আমাদের বিশেষ পাওয়া। তা হলো-
১. রাতের শেষ প্রহর : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের মহামহিম প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, ‘কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব। কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি : ১১৪৫)। সারা বছর রাতের শেষ প্রহর কেটে যায় ঘুমের ঘোরে। আলস্যের চাদর ছেড়ে জাগ্রত হওয়া অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে পড়ে। কিন্তু রমজানে সে সময়টাতে আমরা সেহরির জন্য জাগি। একটু চেষ্টা করলেই মহামহিম আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা সে স্বর্ণ-সময়টাতে নিজেদের কৃত অন্যায়গুলোর জন্য ক্ষমা চাইতে পারি।
২. ইফতারের আগমুহূর্ত : সারাদিনের পরিশ্রান্ত শরীর, শুকনো মুখ, অভুক্ত উদর, ক্ষুধার্ত চোখ আর রকমারি সুস্বাদু খাবার সামনে নিয়ে যখন বান্দা স্রষ্টার নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকে, তখন সে দৃশ্যটি দেখে তিনি বড় খুশি হন। সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না- ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ও অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। আল্লাহতায়ালা তা মেঘমালার ওপরে তুলে নেন। তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেন। তিনি বলেন, আমার ইজ্জতের শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও তা বিলম্বে হয়।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৮)। আমরা দোয়া কবুলের প্রতিশ্রুত এ সময়টি ইফতারের আয়োজন করতে করতেই কাটিয়ে দিই। অবহেলা ও অসচেতনতায় চাওয়া-পাওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করে ফেলি। হাত তুলে দোয়া করার সুযোগ না হলেও অন্তত মনে মনে ‘ইয়া ওয়াসিআল ফাজলি ইগফিরলি’ পড়তে পারি। নবীজি (সা.) ইফতারের সময় এ দোয়াটি পড়তেন। (শোআবুল ঈমান লিল বাইহাকি : ৩৬২০)।
৩. ফরজ নামাজের পর : ফরজ নামাজের পর দোয়া কবুল হওয়ার কথা নির্ভরযোগ্য একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘কোন দোয়া সর্বাধিক কবুল করা হয়?’ তিনি বললেন, ‘রাতের শেষভাগে এবং ফরজ নামাজ শেষে।’ (তিরমিজি : ৩৪৯৯)।
৪. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দোয়া কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ সাহাবিরা বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কী বলে দোয়া করব?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা কামনা কর।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৪)।
৫. সেজদার মধ্যে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা সেজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব, তোমরা অধিক মাত্রায় (ওই অবস্থায়) দোয়া কর।’ (মুসলিম : ৪৮২)। প্রতিটি সৃষ্টিই স্রষ্টার মুখাপেক্ষী।
মানুষও। মানুষ অতি দুর্বল। জীবনের পদে পদে তার ফিরে আসতে হয় স্রষ্টার দরবারেই। তাই স্রষ্টা তাঁর মহান দরবার সদা উন্মুক্ত রেখেছেন। বিশেষ সুবিধার জন্য দিয়েছেন প্রতিশ্রুত বেশ কিছু সময়-সুযোগ। সুবর্ণ এ সুযোগগুলো মহামহিম স্রষ্টার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ উপহার।