ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পণ্যের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পণ্যের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট কিছুটা বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে গাড়ির। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোয় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে। এরইমধ্যে দেশের বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি, আটা ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে প্যাকেজিং (মোড়কজাতকরণ) ও পরিবহন ব্যয়।

সেইফ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল জানান, খাবার তৈরিতে তারা পাম (সুপার) তেল ব্যবহার করেন। গত এক মাসে এই তেলের দাম ড্রাম প্রতি (১৮৫ লিটার) দুই হাজার টাকা বেড়েছে। আবার ৩৫ লিটারের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় এক হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘খরচ বাড়ায় পণ্যের দাম কিছুটা বাড়াতে হবে। কিন্তু যে হারে ব্যয় বেড়েছে, সে হারে দাম বাড়াতে পারব না। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরও খারাপ অবস্থার মধ্যে ফেলেছে।’ খাদ্য ও শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সেবা খাত পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তারা এই বাড়তি ব্যয়ে চাপের মধ্যে পড়েছেন। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ায় এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। এতে আবার ভোক্তারে ব্যয় বাড়বে। মার্বেল পাথর ও পলিরেজিন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্যুভেনির পণ্য বানায় এসএমই প্রতিষ্ঠান হাতবাক। গত এক মাসে দেশে এই রেজিনের দাম অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। আগে এক ড্রাম (২২৫ কেজি) রেজিন কিনতে লাগত ৫৮ হাজার টাকা। এখন সেই দাম বেড়ে ৭০ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫৩ টাকা দাম বেড়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ভারী যন্ত্র তৈরি করে, সেখানেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। কারখানার জন্য কুলিং যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী তৈরি করে আর্টিজান ক্র্যাফট নামের একটি কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহেদ হাসান বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে আমারে ব্যবসায়ে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। সরকারি একটি প্রকল্পের জন্য আমরা কুলিং ফ্যান তৈরির কার্যাদেশ পেয়েছিলাম। এটি তৈরিতে পিভিসি শিট লাগে, যা তৈরি হয় পেট্রোকেমিক্যাল রেজিন দিয়ে। এখন রেজিনের দাম বাড়ায় রাতারাতি আমাদের ১০ লাখ টাকা খরচ বেড়ে গেছে।’ তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী অযাচিতভাবে কাঁচামালের দাম বাড়িয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় গত সপ্তাহ থেকে দোকান ও শপিংমল সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত