ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্বর্ণের দাম কমার কারণ কী

বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্বর্ণের দাম কমার কারণ কী

বিশ্বে বড় কোনো যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক সংকট বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সাধারণত স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থেকে বাঁচতে স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু এবার চিত্রটি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও পরবর্তী কয়েক মাসের যুদ্ধ চলার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে বরং নিম্নমুখী হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১.১ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে পৌঁছেছিল (১ ট্রয় আউন্স= ২.৪৩ ভরি)। কিন্তু গত শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও কেন স্বর্ণের দাম কমছে?

বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পথে না গিয়ে তা অপরিবর্তিত রাখতে বা আরও বাড়াতে পারে- এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই শঙ্কাই স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমান মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে জ্বালানি বাজারে। তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পণ্য ও সেবার দাম, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে এটি এখন ৪.২ শতাংশ। একই সময়ে শ্রমবাজারও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ দ্রুত সুদের হার কমাবে- এমন প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

সাধারণভাবে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে সোনা জনপ্রিয় হলেও সুদের হার বেশি হলে সেটি সোনার জন্য নেতিবাচক হয়ে দাঁড়ায়। কারণ স্বর্ণ এমন একটি সম্পদ, যা নিজে থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ দেয় না। আর্থিক ওয়েবসাইট অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান অপশন বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল আল জাজিরাকে বলেন, স্বর্ণ এমন একটি সম্পদ, যা প্রকৃত অর্থের সবচেয়ে কাছাকাছি। এটি কোনো লভ্যাংশ দেয় না, আবার দাম না বাড়া পর্যন্ত কোনো আয়ও দেয় না। মানুষ মূলত সোনার মূল্যবৃদ্ধির আশায় এটি কিনে থাকে। তিনি বলেন, সুদের হার বেশি হলে সোনা বিনিয়োগ হিসেবে তার আকর্ষণ হারাতে শুরু করে।

তখন বিনিয়োগকারীরা ডলারের মতো সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ কারণে সুদের হার এবং সোনার মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। সুদের হার বাড়লে সোনার চাহিদা কমে যায় এবং দামও চাপের মুখে পড়ে। ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে মার্কিন ডলারের ওপর। যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তার মধ্যে ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই ডলার ও সোনার দামের মধ্যে সাধারণত উল্টো সম্পর্ক দেখা যায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত