
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবারের লেনদেনে প্রধান মূল্যসূচক কমলেও ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা লেনেদেন হয়েছে এবং দর বেড়েছে ১৬৩ প্রতিষ্ঠানের। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৫টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯২টি কোম্পানির মোট ৪২ কোটি ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯১টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৬৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৮৫টির কমেছে এবং ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন মোট ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৭০ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৪৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএস-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ১ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) শূন্য দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল মালেক স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, আইপিডিসি, সিটি ব্যাংক, আইটিসি, স্কয়ার ফার্মা এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল। অন্যদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, সমরিতা হাসপাতাল, মালেক স্পিনিং, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, তিতাস গ্যাস, শাইনপুকুর সিরামিকস, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, বিজিআইসি, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল, ন্যাশনাল ফিডস, আজিজ পাইপস, ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স, হামিদ ফেব্রিকস, রহিমা ফুডস, বিডি থাই ফুডস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, রহিম টেক্সটাইল, এবি ব্যাংক এবং এপেক্স স্পিনিং। ক্যাটাগরিভিত্তিক হিসাবে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৮২টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৮টির কমেছে এবং ছয়টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ‘এন’ ক্যাটাগরির একমাত্র প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া, লেনদেন হওয়া ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ছয়টির ইউনিটদর বেড়েছে, ১৩টির কমেছে এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডের চারটি ইস্যুর মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে এবং ১ একটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক)-এর তিনটি ইস্যুর সবকটির দর কমেছে।
স্টক এক্সচেঞ্জকে ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই : পুঁজিবাজারে সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে বাজার নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটার নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ক্ষমতা দেওয়ার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি. (ডিএসই)। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসইসি গত ১ জুলাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২০ক-এর আওতায় একটি আদেশ জারি করেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, বাজারে সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিএসই ও সিএসইকে নিজস্ব প্রবিধান ও নীতিমালা অনুযায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটার স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।