
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় দাপট দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত। একই সঙ্গে ব্যাংক ও বিমা কোম্পানিগুলোও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে। এতে সার্বিক বাজারে দাম বাড়ার তালিকা বড় হয়েছে। ফলে বড় উত্থান হয়ছে মূল্যসূচকের। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে মিউচুয়াল খাত। একই সঙ্গে ব্যাংক ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোরও শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৯৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ৪১ টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডর দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি।
ব্যাংক খাতের ২০ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে। এছাড়া ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৮টির দাম কমেছে। এছাড়া ৪টি বিমার শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২২০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৬২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে কুইন সাউথ টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার। ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ড্রাগন সোয়েটার, টেকনো ড্রাগস, এনসিসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইভিন্স টেক্সটাইল এবং সিটি ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।