ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বন্ধ চিনিকল চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ

বন্ধ চিনিকল চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো দেশের সব কারখানার চাকা সচল রাখা। সেই আলোকে বন্ধ থাকা সরকারি সব চিনিকল পর্যায়ক্রমে চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও স্বনির্ভর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মতিঝিলে অবস্থিত বিএসএফআইসি’র প্রধান কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে কর্পোরেশনটির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫টি সরকারি চিনি কলের মধ্যে ৬টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এসব কারখানার আওতাধীন এলাকায় আখ চাষ অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে এসব মিলকে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিএসএফআইসি কাজ করছে। কারণ বন্ধ কারখানাগুলো চালু হলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং সেই সাথে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এ ক্ষেত্রে চিনি কলগুলোর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এসব মিল হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং আশপাশের রাস্তাঘাট উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়া চিনিকলগুলো জ্বালানি সাশ্রয়েও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জ্বালানি ব্যয় হতো। কিন্তু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এ ব্যয় কমানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে আখের ছোবড়া বা ব্যাগাস ব্যবহার করে ‘কো-জেনারেশন’ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান সরকারি চিনি কলের লোকসানের কারণ সম্পর্কে বলেন, ঋণের সুদ ও ‘ট্রেড গ্যাপ’ লোকসানের অন্যতম কারণ। বেসরকারি খাত অনেক ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের সুবিধা পেলেও সরকারি চিনি কলগুলো সে সুবিধা যথাযথভাবে পায় না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, ঋণের সুদ ও শুল্ক বাদ দিলে বিএসএফআইসির প্রকৃত লোকসান তেমন নেই। গত অর্থবছরেই কর্পোরেশন সরকারকে প্রায় ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট দিয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত