
২০০৮ সালে 'নিউ এক্সপেরিয়েন্স' ট্যাগ নিয়ে সম্পূর্ণ বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্র্যান্ড সিম্ফনি মোবাইলের যাত্রা শুরু হয়। এর পরের বছর এ যাত্রারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এডিসন গ্রুপ, যে গ্রুপের পতাকাতলে সিম্ফনি মোবাইল একটি অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে চলেছে। এ পথচলা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ ভাবনা থেকে, মানুষের সাধ্যের মধ্যে থেকে তার প্রয়োজন মেটানো। বছরের পর বছর প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের চাহিদা বদলেছে, বদলেছে ফোন ব্যবহারের ধরনও। তবু একটা জায়গায় সিম্ফনি অনড় থেকেছে, প্রযুক্তি যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে না যায়। যাত্রার শুরু থেকেই সিম্ফনি মোবাইল স্বল্প দামের ভেতরে নিত্যনতুন ফিচার আর ইনোভেটিভ ডিজাইনের হ্যান্ডসেট বাজারজাত করা শুরু করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ফোন কিনতে যখন মানুষকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হতো, তখন সিম্ফনি এ ধরনের ফোন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে বাজারে নিয়ে আসে। ২০১২ সালে সিম্ফনি বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন স্বল্প মূল্যে দেশের মানুষের হাতে তুলে দেয়। এ দীর্ঘ পথে জমা হয়েছে কোটি কোটি মানুষের নিজস্ব গল্প। কারো জীবনের প্রথম মোবাইল ফোনটাই ছিল সিম্ফনি, কারো কাছে এটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ সেতু, কারো ব্যবসা বা কর্মজীবনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। তাই সিম্ফনির কাছে একজন গ্রাহক মানে শুধু একটি সংখ্যা নয়, একটি করে জীবনের গল্প। ১৬ বছরের এ গল্পে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়— সিম্ফনি মোবাইল এখন ১৪ কোটি মানুষের পরিবার। সংখ্যাটা শুনতে বিশাল মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কিছু— ১৪ কোটি মানুষের ভরসা, অসংখ্য পরিবারের স্মৃতি, প্রতিদিনের ছোট-বড় কথোপকথন, আর অগণিত স্বপ্নের ভাগীদার হওয়ার অভিজ্ঞতা। এ বিশেষ মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলেছেন তিনজন মানুষ। ফরিদপুরের রুবেল হোসেন হয়েছেন সিম্ফনির ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৮তম গ্রাহক। তার ঠিক পরেই, ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৯তম গ্রাহক হিসেবে হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নাদিয়া আক্তার। আর তারপরই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন গর্বের সঙ্গে হয়ে ওঠেন সিম্ফনির ১৪ কোটিতম গ্রাহক। মাত্র কয়েকটি সংখ্যার ব্যবধান, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এ তিনজনের নাম এখন একসঙ্গে লেখা থাকবে। রুবেল, নাদিয়া আর মাফিজা— তিনজনই সিম্ফনির কোটি কোটি গ্রাহকের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অভ্যর্থনা দেওয়া হয় গতকাল ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সিম্ফনির ১৪ কোটি গ্রাহকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রতীক।