ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয় বেড়েছে

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয় বেড়েছে

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২৫০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিপরীতে তারা বিক্রি করেছেন প্রায় ১৮০ কোটি টাকার শেয়ার। ফলে এ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনের মধ্যে মোট ১৬ কার্যদিবস ছিল। এরমধ্যে ১৩ কার্যদিবসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চেয়ে শেয়ার কেনার পরিমাণ বেশি ছিল। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিকভাবে শেয়ার কেনার এই প্রবণতা দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে তাদের আস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন নেমে এসেছিল মাত্র ৭৩ কোটি ৯২ লাখ টাকায়। এরপর জুনে তা বেড়ে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা এবং জুলাইয়ে প্রায় ৫২৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আগস্টে বিদেশিদের মোট লেনদেন কিছুটা কমে প্রায় ৩১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই তাদের মোট লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

নীতিগত পরিবর্তনে বিনিয়োগ পরিবেশ : বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া কয়েকটি নীতিগত উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করেছে।

এরমধ্যে অন্যতম হলো শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার। একই সঙ্গে ভালো মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি ও বিদেশি কোম্পানিকে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ দিতে নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। মার্জিন ঋণসংক্রান্ত নিয়ম সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সূচক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআইও বাংলাদেশ নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সূচকের নিয়মিত পর্যালোচনা আবার শুরু হবে। ২০২৩ সালে ফ্লোর প্রাইসসংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাংলাদেশকে 'বিশেষ নজরদারিতে' রাখা হয়েছিল। নিয়মিত পর্যালোচনায় ফিরে আসার বিষয়টি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টাকা বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ : বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিনিয়োগের অর্থ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই সীমা বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করেছে।

এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) প্রতিষ্ঠানের সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো সরাসরি কর কেটে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারছে। এতে অর্থ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও সময় কমেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

১৩২ কোম্পানিতে বিদেশিদের শেয়ার : দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ারধারণ রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। কোম্পানিটির প্রায় ৩৫ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি শেয়ারধারণ রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে, ২৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনাটা লিমিটেডেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) নামে খোলা বিও হিসাবের সংখ্যা ৪১ হাজার ৯৩৭টি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত