ঢাকা শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঢাকাকে গুঁড়িয়ে দ্বিতীয় জয় চট্টগ্রামের

ঢাকাকে গুঁড়িয়ে দ্বিতীয় জয় চট্টগ্রামের

বিপিএল শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মালিকানা বদলে যাওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালস এখন যেন এক অন্য দল। বিসিবির অধীনে খেলা এই দলটি তিন ম্যাচের দুটিতেই জয় তুলে নিয়ে আছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে।

গতকাল শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটে হারিয়ে বলা যায় লজ্জাই দিয়েছে বন্দর নগরীর দলটি। অথচ আগের ম্যাচে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছিল রাজধানীর ফ্র্যাঞ্জাইজিটি। টানটান উত্তেজনায় ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল সিলেটের। কিন্তু গতকাল যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল তারা। এদিন ঢাকাকে দেখা গেল একেবারেই ছন্নছাড়া রূপে। ব্যাটিংয়ে খেই হারানো, আর বোলিংয়ে নেই কোনো ধার—সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সামনে স্রেফ উড়ে গেল ঢাকা।

ম্যাচ শুরুর আগে পিচ রিপোর্টে শ্রীলঙ্কান ধারাভাষ্যকার ফারভিজ মাহারুফ বললেন, “দারুণ ব্যাটিং বান্ধব উইকেট, ১৭০-১৮০ রান হওয়া উচিত।” টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বললেন, বড় স্কোর গড়তে চান তারা। ম্যাচ শুরুতেই দেখা গেল উল্টো চিত্র। চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম, তানভির ইসলামদের বোলিংয়ে নাজেহাল ঢাকার একের পর এক ব্যাটসম্যান!

উইকেট যে আসলে ব্যাটিং স্বর্গ, তা প্রমাণ হয়ে গেল ম্যাচের পরের ভাগেই। চট্টগ্রামের ১২২ রান স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন ঢাকার দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন। ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। নিলামে কোটি টাকা পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটারের এই আসরে প্রথম ফিফটি এটি। তার সঙ্গী রসিংটন মাঠ ছাড়েন ৩৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে। উইকেটের সামনে ঝড় তোলার আগে রসিংটন দারুণ কীর্তি গড়েন উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে। চারটি স্টাম্পিং করে চট্টগ্রামের কিপার স্পর্শ করেন বিশ্বরেকর্ড। বিপিএলে এক ইনিংসে চার স্টাম্পিং এটিই প্রথম।

রসিংটনের চার স্টাম্পিংয়ের দুটি তানভির ইসলামের বলে, দুটি শেখ মেহেদি হাসানের বলে।

চার ওভারে মাত্র আট রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তানভির। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকার দুই ওপেনারকে ফেরানো শরিফুল ইসলামও উইকেট নেন তিনটি।

ঢাকার ভোগান্তির শুরুর ম্যাচের শুরু থেকেই। প্রথম ওভারে শরিফুলে বলে জঘন্য এক শটে উইকেট হারান সাইফ হাসান।

আগের দুই ম্যাচে ১ ও ৯ রানের পর এবার বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ফেরেন ১ রানে। আরেকপ্রান্তে জুবাইদ আকবারিকে মনে হচ্ছিল যেন শিক্ষানবিশ কোনো ক্রিকেটার। আফগান ব্যাটসম্যান ফেরেন ১২ বলে ২ রান করে। তিনে নামা উসমান খান চেষ্টা করছিলেন পাল্টা আক্রমণের। তার ইনিংস শেষ হয় তানভিরের স্পিনে রসিংটনের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে (১৫ বলে ২১)।

আগের দিন ৪৩ বলে ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা শামীম হোসেনও (৭ বলে ৪) ফেরেন রসিংটনের ক্ষীপ্রতায়। দলের বিপর্যয়ে ঢাল হতে পারেননি অধিনায়ক মিঠুন (১২ বলে ৮)। শেখ মেহেদিকে একটি ছক্কা মারার পর তাকেই উইকেট উপহার দেন সাব্বির রহমান (৮ বলে ৯)। ইমাদ ওয়ামিকে (৮ বলে ৯) স্টাম্পিং করে রসিংটন করেন রেকর্ড। ৬৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে তখন কাঁপছে ঢাকা।

সেখান থেকে নাসির হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের জুটি দলকে শতরান পেরিয়ে আরেকটু এগিয়ে নেয়। ৬ ওভারে ৪৮ রানের জুটি গড়েন দুজন। নাসির ফেরেন ২০ বলে ১৭ রান করে।

২৫ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে দলকে ১২০ পার করান সাইফ উদ্দিন। মাঝবিরতিতে ধারাভাষ্যকার রামিজ রাজা বলছিলেন, এই স্কোরেও ম্যাচ জমে উঠবে বলে মনে হচ্ছে তার। কিন্তু নাঈম ও রসিংটন পাত্তাই দেননি ঢাকার বোলিংকে।

অনায়াসেই রান বাড়িয়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান দুজন। রসিংটন অবশ্য একটি সুযোগ দিয়েছিলেন ২৪ রানে।

সাইফ উদ্দিনের বলে ক্যাচটি নিতে পারেননি ইমাদ। এরপর আর কোনো সুযোগ দেননি তারা। ৩৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছান নাঈম, ৩১ বলে রসিংটন। এরপর কাজ শেষ করেও আসেন দুই ওপেনার। ম্যাচ শেষ করে দেন দুজন ৪৪ বল আগেই।

চট্টগ্রামের আগের ম্যাচের দিন সকালে সিলেটে পৌঁছেই দুপুরে ম্যাচ খেলতে নেমে উইকেটের সামনে ও পেছনে বিবর্ণ ছিলেন রসিংটন। এবার তা পুষিয়ে দিলেন ম্যাচণ্ডসেরা হয়ে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত