ঢাকা রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নিরাপত্তা শঙ্কায় আইসিসিকে চিঠি বিসিবির

নিরাপত্তা শঙ্কায় আইসিসিকে চিঠি বিসিবির

আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতের মাটিতে জাতীয় দল পাঠানো নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই চিঠিতে ভারত সফর নিয়ে বোর্ডের সব আশঙ্কা ও অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে গত রোববার আইসিসিকে পাঠানো এক প্রাথমিক চিঠিতে বিসিবি অনুরোধ করেছিল, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন ভারত থেকে সরিয়ে অন্যত্র আয়োজন করা হয়। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি বিসিবিকে তাদের উদ্বেগগুলো বিস্তারিতভাবে জানাতে বলেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন আইসিসির জবাবের অপেক্ষায় বিসিবি, যা নির্ধারণ করে দিতে পারে বাংলাদেশ আদৌ এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের।

গত বুধবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আবারও স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সফরে যেতে অনিচ্ছুক বোর্ড। ওই বৈঠকের পর আসিফ নজরুলও বলেন, ‘জাতীয় সম্মান কিংবা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা’ নিয়ে কোনো আপস করবে না সরকার। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এই অবস্থানকে আরও জোরালো করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ভারতের বাইরে খেলব। আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা তাদের ভারতে পাঠাতে চাই না।’ তবে এই সংকটের মধ্যেই সংলাপের পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। গতকাল সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।’ নিজের মতামত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামিম আরও বলেন, ‘আমি যদি বিসিবিতে থাকতাম, তাহলে বলতাম এটা যেহেতু সংবেদনশীল বিষয়, প্রকাশ্যে মন্তব্য করার আগে বোর্ডের ভেতরেই আলোচনা করা উচিত। কারণ একবার প্রকাশ্যে অবস্থান নিলে, সেটা ঠিক হোক বা ভুল সেখান থেকে সরে আসা কঠিন হয়ে যায়।’ অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন সাবেক এই অধিনায়ক, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সব কিছুর আগে। আমাদের মোট আয়ের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশই আসে আইসিসি থেকে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- কোনটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, সেটি ভেবেই।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত